লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ৯০ শতাংশ স’মিল

রংপুর ব্যুরো: রংপুরে স’মিল স্থাপনে বন বিভাগের লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে  লাইসেন্স বিহীন স’মিলের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, লাইসেন্স ফি দুই হাজার ও নবায়ন ফি মাত্র ৫০০ টাকা হলেও  মিল মালিকরা এ সামান্য টাকা দিয়েও লাইসেন্স নিতে আগ্রহী না। মালিকরা বলছেন, বন বিভাগের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। যা অনেক সময় সম্ভব হয় না। এ কারণেই লাইসেন্স নিতে চান না তারা।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় চালু স’মিলগুলোর  মাত্র ১০ শতাংশের মতো লাইসেন্স রয়েছে। অর্থাৎ ৯০ শতাংশের লাইসেন্স নেই। এ বিভাগে স’মিল আছে ১হাজার ৪৯৭ টি। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১৫৩ টির। রংপুরে ৪৭৫টি মিলের মধ্যে লাইসেন্স আছে নয়টির। লালমনিরহাটে ২০০টির মধ্যে ৫১টি, কুড়িগ্রামে ৩২৩টির মধ্যে ৯৩টি লাইসেন্স নিয়ে চলছে। গাইবান্ধার ২৫২টি ও নীলফামারীর ২৪৭টি মিলের মধ্যে লাইসেন্স নেই একটিরও।

নগরীর লালবাগের জনতা স’মিলের মালিক নুরুজ্জামান জানান, ১৯৮০ সাল থেকে তিনি স’মিলের ব্যবসা করছেন। এখন পর্যন্ত লাইসেন্স নেননি। ২০১৪ সালে লাইসেন্স নিতে গেলে বন বিভাগ জানায় একসঙ্গে ২০-৩০ জন আবেদন না করলে লাইসেন্স দেয়া হবে না। আর একা লাইসেন্স নিতে হলে ৩০-৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। এ কারণে লাইসেন্স করা হয়নি।

আরো পড়ুন>>> রংপুরে ৮ লাখ নকল ব্যান্ডরোলসহ আটক তিন

রংপুর স’মিল মালিক সমিতির সভাপতি হারুন অর রশীদ জানান, বন বিভাগের লাইসেন্স পেতে অনেকেই ফরম এনেছেন। এছাড়া সহকারী কমিশনারের প্রত্যয়নপত্র ও ম্যাপের জন্য আবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যয়নপত্র ও ম্যাপ না পাওয়ায় লাইসেন্স করা সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা  মতলুবুর রহমান বলেন, লাইসেন্স দিতে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়। লাইসেন্স পেতে স’মিলকে অবশ্যই বন সম্পত্তির ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হতে হবে। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বাইরের মিলগুলো শর্ত পূরণ করছে না। তাই লাইসেন্স দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাআলো/এসএ