সাবেক এমপি আউয়ালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর: পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

মঙ্গলবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার মুখার্জি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভুয়া মালিক সাজিয়ে সরকারি জমি দখল করে ভবন তৈরিসহ একাধিক অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে তিনটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। একটি মামলায় তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকেও আসামি করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া আউয়াল ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারির বিষয়টিও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমোদন দেয়া হয়।

মামলার অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যহারের মাধ্যমে সাবেক এমপি আউয়াল কাল্পনিক ও ভুয়া ছয় ব্যক্তিকে ভূমিহীন দেখিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করেন। ওই ছয়জনের নামে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় ১৩ শতাংশ সরকারি খাস জমি নিজের দখলে নেন। পরে সেখানে তিনি তিনতলা বাড়ি বানিয়ে পল্লীবিদ্যুৎকে ভাড়া দেন।

জালিয়াতির এ ঘটনা অনুসন্ধানের পর স্থানীয় এসি ল্যান্ড দুদক কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, তিনি ওই ছয় ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ছয় ব্যক্তির অস্তিত্ব না থাকলেও সাবেক এমপি আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পরভীনের নামে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রমাণ পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান শেষ করে মামলার সুপারিশ করেছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী দেখা যায়, সরকারি খাস জায়গা লিজ নিয়ে ওই জায়গায় স্ত্রী লায়লা পারভীনের নামে তিনতলা ভবন নির্মাণ করে তা পিরোজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে দখলে রাখার অপরাধে মামলার সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আলী আকবর।

প্রায় একই প্রক্রিয়ায় সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে স্বরূপকাঠি উপজেলায় ডাকবাংলোর কাছে তিনতলা একটি আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণ করেন আউয়াল। ক্ষমতা প্রয়োগ করে এ জালিয়াতি করার অপরাধে একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপর মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

এছাড়া পিরোজপুর শহরের খুমুরিয়া মৌজার জেএল-৪৬, খতিয়ান নং-২৯৩, রাজার পুকুর নামে পরিচিত ৪৪ শতক সরকারি খাস জমির চারদিকে দেয়াল নির্মাণ করে দখলে নেন আউয়াল। পরে সেখানে বসান পাহারাদারও। এই অপরাধে আউয়ালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তৃতীয় মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

পিরোজপুর-১ আসন থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দুবার আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আউয়াল। এর মধ্যে দু’বার তিনি এমপি থাকাকালে এসব অনিয়ম করেন।

স্বাআলো/এসএ