শনিবার যশোরে রাশেদ খান মেননদের পাল্টা সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর: আগামীকাল শনিবার যশোর টাউন হল ময়দানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শহরের দরাটানা, চার খাম্বার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় লাল পতাকা ছাড়াও বড় বড় ব্যানার টানানো হয়েছে।

রাশেদ খান মেননের ওয়ার্কাস পার্টি থেকে বেরিয়ে আসা বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যশোরে।দুই দিনের সেই সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) নামে এক নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেই যশোরে ওয়ার্কার্স পার্টির মূল অংশের বিভাগের সম্মেলন আয়োজন করায় এটাকে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে চাইছেন তারা।

তবে যশোর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সব্দুল খান বলছেন,পাল্টা সমাবেশ অনেকে বলতে পারেন। তবে তেমন কিছু না।যশোর বিভাগের কেন্দ্রে হওয়ায় বিভাগীয় সমাবেশটি এখানে আয়োজন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন>>>‘ওয়ার্কার্স পার্টির মূল লক্ষ্য এখন এককভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া’

তিনি আরো জানান, এই সমাবেশে বিভাগের ১০ জেলা থেকে ১০ হাজার নেতাকর্মী আসবেন বলে তারা আশা করছেন।সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি তারা শেষ করেছেন।

এদিকে, সমাবেশকে সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠেয় এই মতবিনিময় সভা থেকে জানানো হয়, দলটির সর্বশেষ কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব বিভাগে একটি করে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার যশোর টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে এই সমাবেশ।সমোবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।এছাড়া সমাবেশে কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

দলীয় সূত্র বলছে, এই সমাবেশ সফল করতে সব ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। গত দুইদিন ধরে সমাবেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে শহরে মাইকিং করা হয়েছে। বিলি করা হচ্ছে লিফলেট। টাউন হল ময়দানকে সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্তত ১০ হাজার মানুষের সমাবেশেন টার্গেট নিয়ে আয়োজকরা কাজ করছেন। বিভাগের সব জেলা থেকে অন্তত দুইটি বাস ভরে নেতাকর্মীদের আনার চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে দলটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের নিজ এলাকা বাঘারপাড়া উপজেলা থেকে সব চেয়ে বেশি নেতাকর্মী আসবেন। এসব নেতাকর্মীদের আসার জন্য পার্টির পক্ষ থেকে গাড়ি ভাড়া করে দেয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২৯ ও ৩০ নভেম্বর যশোরে বড়োসড়ো সমাবেশ করে নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির (মার্কসবাদী) যাত্রা শুরু হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ৩০ নভেম্বর যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় কাউন্সিল অধিবেশন।ওই অধিবেশন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক পলিটব্যুরোর সদস্য নুরুল হাসানকে সভাপতি ও আরেক সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এর আগের দিন যশোর টাউন হল ময়দানে বড় ধরনের সমাবেশ করে ওয়ার্কার্স পার্টি মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটি।

ওই সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নুসহ বিভিন্ন কমিউনিস্ট দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ থেকে নেতারা বাংলাদেশের মেহনতী মানুষের মুক্তির লড়াইকে বেগবান করতে নিজদের এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

স্বাআলো/আরবিএ