দুই ছাত্রীকে কোদাল দিয়ে পেটালেন অধ্যক্ষ, ভয়ে পালিয়েছে অনেকেই

জেলা প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কোদালের আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার সকালে সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষায় তারা অকৃতকার্য হওয়ায় কোদাল দিয়ে আঘাত করেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- সদর উপজেলার সাখাইতি গ্রামের মৃত মহর উদ্দিনের মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাছলিমা খানম (১৯) এবং মাগুরা গ্রামের প্রবাসী মইনউদ্দিনের মেয়ে নাইমা বেগম (১৮)।

জানা যায়, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজে টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় প্রায় ৬০ জনের মতো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। এতে ওই ৬০ জন শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষ ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে জানালে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধ করলে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মাঠে থাকা কোদাল ও শাবল দিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

এসময় তাদের সঙ্গে থাকা আরো ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের ভয়ে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে চলে যায়। পরে আহত দুই শিক্ষার্থীকে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে ফার্মেসির কর্তব্যরতরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে আহত শিক্ষার্থীদের সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের হাসপাতালে ভর্তি করান।

এ ব্যাপারে আহত শিক্ষার্থী নাইমা বেগম বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কলেজ থেকে টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়। সেই পরীক্ষায় আমাদের ভালো ফলাফল আসার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ আমাদের ফেল করে দিয়েছেন। এজন্য আজকে আমরা অধ্যক্ষ স্যারের কাছে আমাদের খাতা দেখার জন্য অনুরোধ করলে এবং অকৃতকার্যের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বললে স্যার মাঠে কাজ করা অবস্থায় শাবল ও কোদাল দিয়ে আমাকে ও আমার এক বান্ধবীর কোমরে ও পায়ে আঘাত করেন। আমরা এর শাস্তি চাই।

মইনুল হক ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাখেরা আক্তার বলেন, আমরা অধ্যক্ষ স্যারকে টেস্ট পরীক্ষার অকৃকার্যের বিষয়টি দেখার জন্য ও আমাদের খাতা দেখানোর অনুরোধ করলে তিনি আমাদের ওপর ক্ষেপে যান। এসময় তিনি মাঠে কাজ করার অবস্থায় ছিলেন। সেখানে রাখা শাবল ও কোদাল দিয়ে তাছলিমা ও নাইমাকে মারধর করেন তিনি। আমরা তার বিচার চাই।

সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কামরুল হাসান বলেন, নাইমার বাম পায়ের হাটুতে এবং ডান থাইয়ে রক্ত জমে গেছে এবং তাছলিমার ডান থাই একটু ফেটে গেছে। আমরা তাদের চিকিৎসা শুরু করেছি এবং তাদের ভর্তি রেখেছি।

এ ঘটনায় মঈনুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার প্রশ্নই আসে না। তারা এইচএসসি পরীক্ষার জন্য অনুষ্ঠিত টেস্ট পরীক্ষায় কেউ ৩টি বিষয়ে, কেউবা ৪টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। আমাদের বিধান রয়েছে ৩-৪ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তারা আমার কাছে অনুরোধ করেছিল বিষয়টা দেখার জন্য। আমি তো নিয়মের বাইরে যেতে পারি না। তাই তারা মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নিয়ে আসে আমার কাছে এবং বিষয়টি বিবেচনার জন্য বললে আমরা বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ৫০-৫০ মার্কে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সেখানেও একজন শিক্ষার্থী ছাড়া বাকিরা ১২-১৩ পেয়েছে। এজন্য আজকে তারা আমার কাছে আবার এলে আমি বলি এখন আর কিছু করার নেই। এ সময় সাব্বির নামে এক শিক্ষার্থী আমার গায়ে হাত তুলে এবং ওই সময় আমি মাঠে কাজ করা অবস্থায় থাকায় মাঠের কর্মচারীরা তাদের বাধা দেয়। কিন্তু আমি কারও গায়ে হাত তুলিনি।

সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি সহিদুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করা হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

স্বাআলো/এসএ