নতুন দলে যোগ দিলেন জামায়াতে ইসলামের শীর্ষ নেতা আবু হেনা

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার : দলীয় পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে একের পর এক শীর্ষ নেতা জামায়াতে ইসলাম ছেড়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ দলটি ছেড়ে গেছেন উত্তরবঙ্গে জামায়াতের অন্যতম সংগঠন ও দলটির প্রভাবশালী নেতা আবু হেনা এরশাদ হোসেন সাজু।

তিনিও জামায়াত-শিবির ছেড়ে দেয়া আগের নেতাকর্মীদের মতো নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’-এ যোগ দিয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের হোটেল কোস্টাল পিস মিলনায়তনে তিনি সংগঠনটির রাজনৈতিক কর্মশালায় নিজ অনুসারীদের নিয়ে যোগ দেন।

জামায়াত নেতা আবু হেনা এরশাদ হোসেন সাজু লালমনিরহাট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ২০০১, ২০০৮, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আজ আবু হেনা এরশাদ হোসেন জামায়াত থেকে পদত্যাগ করে জন আকাঙ্ক্ষায় যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবসার পণ্য বানানো খুবই দুঃখজনক। অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতিই হলো প্রকৃত বাংলাদেশ গঠনের সহায়ক।

জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবু হেনা এরশাদ হোসেন বলেন, জামায়াত রক্ষণশীল একটি দল। সেখানে কথা বলার এবং কাজ করার স্বাধীনতা নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় লালমনিরহাটের পাটগ্রামে আমাদের তিন শত বিঘা জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের ৬ নম্বর সেক্টর কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি। আমি আমার দেখা ৬ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি বই লিখছি। কিন্তু আমাকে বলা হয় এখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা যাবে না। এ ধরনের অনেক বিষয় আছে, যা নিয়ে আমার ভেতরে খটকা তৈরি হয়।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা মজিবুর রহমান মনজু। তিনি বলেন, দেশে চলমান রাজনীতি নিয়ে মানুষ হতাশ। আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। হতাশার মাঝেই আমরা রাজনীতিতে নতুন দ্বার উন্মোচন করবো। একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ অনেক কঠিন। তবু শক্ত মনোবলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করবো।

এসময় অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’-এর কক্সবাজারের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কাশেম, মাস্টার শফিকুল হকসহ আরো অনেকে। অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল আলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান এ এফএম সোলায়মান চৌধুরী।

গত বছরের ২৭ এপ্রিল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’। এর আগে, জামায়াতে ইসলামীতে বিভক্তির অভিযোগ এনে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দল থেকে বহিষ্কার করা হয় মনজুকে। ওই দিনই লন্ডনে অবস্থানরত সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক স্বেচ্ছায় জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন। ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মনজু জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে তার সক্রিয়তা না থাকলেও জামায়াতের তাত্ত্বিক পর্যায়ে মনজুর বেশ ভালো অবস্থান ছিলেন।

স্বাআলো/ডিএম