পদার্থবিজ্ঞান বুঝার কিছু সহজ কৌশল

ডেস্ক রিপোর্ট: নবম শ্রেণি থেকে পড়াশোনার বিভাগ আলাদা হয়ে যায়। কেউ মানবিক বিভাগে পড়বে বা ব্যবসায় শাখায়। আবার কেউ বিজ্ঞান বিভাগে। বিজ্ঞান বিভাগে তুলনামূলক ভালো শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। যারা গণিত ভালো পাড়ে তারাই নেয়। কিন্তু তাদের অনেকেরই পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে ভীতি কাজ করে। ভালো নম্বর পাওয়া যায় না। কীভাবে পদার্থ বিজ্ঞান সহজে আয়ত্ব করা যায় সেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা। পদার্থ বিজ্ঞান ভীতি দূর করতে করণীয়।

পদার্থবিজ্ঞান বিজ্ঞান বিষয়গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটি আমাদেরকে পরিপাশ্বিক পৃথিবী সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান দিতে পারে। ফিজিক্স বা পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে আমরা অনেকেই ভয়ে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকই জানি না যে এর প্রধান কারণ হলো বিষয়টি না বুঝে পড়া।

মৌলিক সূত্রগুলো মনে রাখা: পদার্থবিজ্ঞান হলো, গুটি কয়েক সূত্রের সমষ্টি এবং এই সূত্রগুলো পদার্থবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি। এই সূত্রগুলো ভালভাবে মনে রাখলে আপনি খুব সহজেই পদার্থবিজ্ঞানের অন্যান্য অংশগুলো বুঝতে পারবেন। তবে সূত্রগুলো মুখস্ত করার চেয়ে বুঝে মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি সূত্রগুলোর জন্য মাইন্ডম্যাপ ডেভেলপ করা যায়। তাহলে খুব সহজেই যেকোনো সময় সূত্রগুলো ব্যবহার করা যাবে।

সমীকরণগুলোর প্রতি বিশেষ নজর: পদার্থবিজ্ঞানে অনেকগুলো সমীকরণ আছে যা পড়ার সময় অনেকবার পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে কিছু সমীকরণ খুবই সহজ আবার কিছু সমীকরণ খুবই জটিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হল জটিল সমীকরণগুলোর সবগুলো সাধারণ সমীকরণ থেকে আসে। সুতরাং সবার আগে পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ সমীকরণগুলো আয়ত্ত্ব করতে হবে।

ডেরিভেটিভগুলো ভালভাবে শেখা: ডেরিভেশন ফিজিক্সের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের সবক্ষেত্রেই এর ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। সাধারণ ডেরিভেটিভগুলো খুব সহজে নিষ্পন্ন করা গেলেও জটিল ডেরিভেটিভগুলো শিখতে অনেক সময় এবং চিন্তা করা লাগে। তাই ডেরিভিশনে ভাল করার জন্য ব্যাসিক ডেরিভেশনগুলো ভাল ভাবে শিখতে হবে।

ক্লাস শুরুর আগে বাসায় পড়া: ক্লাশ শুরুর আগে ক্লাসে যে অধ্যায়টি বুঝানো হবে তা নিজে নিজে বুঝার চেষ্ঠা করতে হবে। এক্ষেত্রে গাণিতিক সমস্যাগুলো রেখে দিতে হবে। অধ্যায়টি পড়ার সময় যে অংশগুলো বুঝতে সমস্যা হয় তা নোট করে রাখতে হবে এবং ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষক থেকে তা বুঝে নিতে হবে।

ক্লাসে সর্বোচ্চ মনযোগী: সাধারণত শিক্ষকরা ক্লাস চলাকালে পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বুঝায়। তাই ক্লাস মনযোগ দিয়ে করলে খুব সহজেই উক্ত অধ্যায় বুঝা যাবে। কোনো কিছু না বুঝলে তৎক্ষণাৎ শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করতে হবে।

গাণিতিক সমস্যায় এককের ব্যবহার ভালভাবে আয়ত্ব করা: গাণিতিক সমস্যায় ভুল এককের ব্যবহারে পরীক্ষায় প্রাপ্য নাম্বার কমে যেতে পারে। তাছাড়াও সূত্রের পাশাপাশি এককগুলো মনে রাখলে খুব দ্রুতই যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে পারা যায়। তাই বেশি ব্যবহৃত এককগুলো মনে রাখতে এবং প্রশ্নে উল্লেখিত উপাত্তের ভিত্তিতে একক বের করা শিখতে হবে।

ফিজিক্সে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এককগুলো উল্লেখ করা হলঃ

ভরঃ গ্রাম/কিলোগ্রাম (gram/ kilogram)

 বলঃ নিউটন (Newton)

ত্বরণঃ মিটার/সেকেন্ড^2 (meter/second^2)

শক্তি/কাজঃ জুল/ কিলোজুল (Joule/Kilojoule)

 পাওয়ারঃ ওয়াট (watt)

চিত্রের মাধ্যমে শেখা: যেকোনো জিনিস শেখার ক্ষেত্রে চিত্রের ব্যবহার খুব সহজে এবং কার্যকরীভাবে শিখতে সাহায্য করে। এটি পাঠ্য বিষয়কে একটি দৃশ্যমান স্মৃতি হিসাবে অনেক দিন ধরে মনে রাখতে সাহায্য করে। এই কৌশলটি ব্যবহারের জন্য চিত্র আকাতে খুব ভাল হতে হবে না। তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে চিত্রটি এমন ভাবে আকতে হবে যেন নিজে বুঝা যায়।

পদার্থবিজ্ঞান পড়ার সময় উপরিউক্ত বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখলে পড়া আরো সহজ এবং স্থিতিশীল হবে।

স্বাআলো/টিআই