একটি চাকরির জন্য নুপুর বিশ্বাসের আবেগঘন চিঠি

জেলা প্রতিনিধি,গোপালগঞ্জ: একটি চাকরির জন্য নিরুপায় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠিতে আবেদন করেছেন কোটালিপাড়ার ছিকটিবাড়ি গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান কালিপদ বিশ্বাসের মেয়ে নুপুর বিশ্বাস ।

তিনি তার আবেগঘন চিঠিতে বলেছেন, আমি দুই ভাই-বোনের মধ্যে আমি বড়। আমার এসএসসিতে জিপিএ(৩.৯৪) ও এইচএসসিতে ৩.২০ ছিল। বাংলায় অনার্স ৩.১৩ ও মাস্টারর্সে ৩.২২ পেয়েছি। আমার চাকরির বয়সও প্রায় শেষ। বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের কষ্ট আর আমার সহ্য হয় না। ছোটবেলা থেকেই দুঃখ-কষ্ট ও অর্থনৈতিক অনটনের মধ্য দিয়েও লেখা-পড়া ছাড়িনি। এক বেলা বা আধপেটা খেয়ে স্কুল-কলেজে গিয়েছি।

মা-বাবার প্রেরণা ও আমার অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকায় অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য এ পর্যন্ত অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির লিখিত পরীক্ষা দিয়েছি। এর মধ্যে অন্তত ১৫টিরও বেশি মৌখিক পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেছি। পরীক্ষাও ভালো হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টাকাও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু আমি টাকা না দেয়ায় সরকারি চাকরি নামক সোনার হরিণটি আমার ভাগ্যে জোটেনি।

আরো পড়ুন>>>যৌন নিপীড়ন: গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে অব্যাহতি

তাই মাঝে মধ্যে নিজেকে সামলে রাখতেও কষ্ট হয়। হাতাশায় ভুগি। এমনকি আত্মহত্যার মতো বিষয়টিও মাথায় আসে। কিন্তু মা-বাবা ও ছোট ভাইয়ের কথা চিন্তা করে অনেক কিছুই করতে পারছিনে। কিন্তু এখন আর কোনো উপায় দেখছিনে। তাই শেষ পর্যন্ত হয়তো আমাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে।

তিনি শেষ আকুতিতে বলেন, আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা না হলে আমার পরিবারটি টিকবে না, ধুঁকে ধুকে মরবে।

স্বাআলো/আরবিএ