নির্বাচনে এগিয়ে তাপস-আতিকের নৌকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস অবিরাম নৌকার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া বাদ বাকি সময়ও নির্বাচনী কাজে ব্যয় করছেন। খাওয়া, ঘুম যেন হারিয়ে গেছে গত কয়েকদিনে। প্রার্থীদের সাথে সাথে প্রচারণায় যুক্ত থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদেরও একই অবস্থা। বক্তব্য দিতে দিতে গলা ভেঙে গেছে অনেকের, এরপরও থেমে নেই তারা।

এর মধ্যে নৌকার নির্বাচনী প্রচারণা সাড়া ফেলেছে দক্ষিণ-উত্তর ঢাকা সিটির সব জায়গায়। জয় করেছে ভোটারদের মন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৌকা প্রতীক এগিয়ে যাচ্ছে সব জায়গায়।

এদিকে প্রতিদিনের মত এক পথসভায় ব্যারিস্টার তাপস নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমাকে সময় দিন, আমি আপনাদেরকে আগামী ৫ বছর সময় দেবো। শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সূচি যদি পরিবর্তন করতেই হয় তাহলে আরো আগে করলে সেটা আরো ভালো হতো। এখন সূচি পেছানোয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় একটু ব্যাঘাত ঘটবে। এছাড়া আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে প্রচারণা চালাচ্ছি এতেও শিক্ষার্থীদের একটু সমস্যা হচ্ছে। নির্বাচনের তারিখ না পিছিয়ে যদি এগিয়ে আনা হতো তাহলে শিক্ষার্থীদের এই সমস্যায় পড়তে হতো না।

তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরা ঢাকাবাসী মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।

নৌকা দেবে উন্নয়ন, নৌকা দেবে শান্তি

এদিকে কল্যাণপুরে প্রচারণার সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও নৌকার ব্যাকগ্রাউন্ড লাগে না, নৌকার ব্যাকগ্রাউন্ড নৌকার গিয়ার একটিই, সেটা হচ্ছে উন্নয়নের গিয়ার, নৌকার জোয়ার। নৌকায় যদি ভোট দেন, তাহলে অবশ্যই নৌকা দেবে উন্নয়ন, নৌকা দেবে শান্তি, নৌকা দেবে শৃঙ্খলা, নৌকা দেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষণা।

আতিকুল বলেন, যদি শক্ত নেটওয়ার্কিং গঠন করতে পারি, তাহলে আমরা অ্যাপসের মাধ্যমে সবই জানতে পারবো এবং প্রত্যেকেই মেয়র হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন। দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, সরাসরি কেউ যদি ট্যাক্স দিতে যায়, তাহলে অসাধু কিছু কর্মকর্তার সাথে নেগোসিয়েশন হয়। এই ফ্ল্যাটের ট্যাক্স এতো ওই ফ্ল্যাটের ট্যাক্স এতো টাকা। এগুলো আর চলবে না। চলতে দেয়া হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে সবাই বাড়ির ট্যাক্স দেবেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে আর যেতে হবে না। এ ধরনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে এ বন্দোবস্ত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই জবাবদিহিতা। আমি এবং আমার কাউন্সিলররা যদি জয়লাভ করতে পারি তাহলে এরকমভাবে প্রত্যেক মাসে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে জবাবদিহিতামূলক টাউন হল মিটিং করবো এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবো। আপনারা আমাদের প্রশ্ন করবেন কোন অফিসার খারাপ আচরণ করেছে, কোন কাউন্সিলর খারাপ আচরণ করেছে, মেয়রও যদি খারাপ আচরণ করে বলতে পারবেন।

স্বাআলো/আরবিএ