চৌগাছায় স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে হত্যা, ১ জনের যাবজ্জীবন

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র সৌরভকে অপহরণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ আদালত। অন্য ৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

সোমবার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক মাহমুদা খাতুন এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ইদ্রিস আলী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আরো পড়ুন>>>  চৌগাছায় ফেনসিডিলসহ বাপ-বেটা আটক

আদালতের আদেশে বলা হয় অভিযুক্ত আসামি বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৭ ও ৮ ধারার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকে উল্লেখিত আইন ও ধারার অধীনে দন্ডনীয় অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্তক্রমে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত করা হলো। অভিযুক্ত আসামি হুদাফতেপুর গ্রামের ইউনুচ আলীর ছেলে শ্যামল হোসেন খোকন, একই গ্রামের আব্দুল মাজেদের ছেলে আশরাফুল ইসলাম পলিন, গরীবপুর কালিতলার ইশান কুমার মন্ডলের ছেলে অমল কুমার মন্ডল ও জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মাহাতাব খাঁর ছেলে শাহীন ও জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে শামীম কবিরের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৭ ও ৮ ধারার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের উল্লেখিত আইন ও ধারার অধীনে নির্দোষ সাব্যস্তক্রমে খালাস প্রদান করা হল। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিল্লাল হোসেন পালাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশও দেন আদালত।

আরো পড়ুন>>>  চৌগাছায় নারীর চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে আ.লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৭

২০১২ সালের ৯ জুলাই সোমবার দুপুরে উপজেলার গরীবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ সাহা (১০) স্কুল শেষে বাড়ি যাবার পথে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই সৌরভের বাবা স্বপন সাহা চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, সোমবার দুপুরে টিফিনের সময় সৌরভ স্কুল থেকে বাড়িতে আসে। দুপুরে খেয়ে সে আবার স্কুলে যায়। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে মুঠোফোনে কল আসে। ওই ফোনকলের মাধ্যমে বলা হয়, ‘সৌরভ আমাদের কাছে আছে। পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত ঝিনাইদহে এলে সৌরভকে ছেড়ে দেয়া হবে।’ অপহরণের ঘটনা র‌্যাব-পুলিশকে জানালে সৌরভকে হত্যা করা হবে বলেও ফোনে হুমকি দেয়া হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ জুলাই উপজেলার পিতম্বর গ্রামের বিল্লাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ১১ জুলাই সকালে স্কুলের পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে সৌরভের লাশ উদ্ধার করা হয়। মূল আসামি  বিল্লাল হোসেন অপহরণের পর হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বিল্লাল হোসেন স্বীকার করে, পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তাঁরা ছয়জন সৌরভকে অপহরণ করেন। পরে তাঁরা সৌরভকে খুন করে পাটক্ষেতে ফেলে রাখেন। পুলিশ বিল্লালের স্বীকারোক্তি মোতাবেক উপজেলার হুদাফতেপুর গ্রামের শ্যামল হোসেন খোকন ও আশরাফুল ইসলাম পলিন, গরীবপুর কালিতলার অমল কুমার মন্ডল ও জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের শাহীনকে গ্রেফতার করে। পরে আসামিরা জামিনে মুক্তি পান। দীর্ঘ প্রায় আটবছর পর সোমবার মামলার রায় হল।

নিহত সৌরভের বাবা স্বপন সাহা মোবাইল ফোনে বলেন দীর্ঘ আট বছরপর আমার কলিজার টুকরো হত্যা মামলার রায় দেয়া হয়েছে। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমি উচ্চ আদালতে আপিলের চেষ্টা করব।

স্বাআলো/এসএ