সংস্থার আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল মধুচক্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: খবরের কাগজে ‘বন্ধুত্ব করুন’ র বিজ্ঞাপন৷ আর তার আড়ালে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ৷

ভারতের ‎উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসতে গ্রেফতার এক সাইবার কাফের মালিক৷ আপাতত সিল করা হয়েছে কাফেটি৷ মধুচক্র চালানোর পাশাপাশি বারাসত ও নিউটাউন থানায় কয়েক কোটি টাকা প্রতারণার মামলা রয়েছে ধৃত প্রভাস হালদারের বিরুদ্ধে৷

আরো পড়ুন>>>  বডি ম্যাসেজের আড়ালে সুন্দরী নারী দিয়ে দেহব্যবসা

কল্যাণী থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল প্রভাস হালদারের বিরুদ্ধে৷ সেই তদন্তে নেমেই এই কীর্তির পর্দাফাঁস পুলিশের৷ কয়েক সপ্তাহ আগে মধ্যমগ্রামের একটি বাড়িতে ভুয়ো অফিসের সন্ধান পায় পুলিশ৷ সেখান থেকেই অপারেশন চালাত প্রভাস হালদার৷ ‘পত্র মিতালি’ নাম দিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপা হয় খবরের কাগজে৷ ‘বন্ধুত্ব করুন’ সংস্থার আড়ালে রমরমিয়ে চলত মধুচক্র৷ এরপর বিভিন্ন অন্তরঙ্গ ভিডিও জোগাড় করে ক্রেতাদের ক্রমাগত ব্ল্যাকমেলিং করা হত৷ তাদের কাছ থেকে মোটা টাকার চেক নিয়ে রাখা হত বিভিন্ন বেনামি অ্যাকাউন্টে৷ সেই টাকাতেই মাইনে দেয়া হত অফিসের কর্মচারীদের৷ বেনামি অ্যাকাউন্টগুলি বেশিরভাগই বিভিন্ন দুঃস্থ পড়ুয়াদের নামে৷ পরে সেখান থেকে চেক ভাঙিয়ে ক্যাশ তোলা হত৷

কল্যাণী থানায় প্রতারিত এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন৷ তদন্তে নামে সিআইডি৷ সন্ধান পায় মধ্যমগ্রামের ভুয়ো অফিসের৷ জানা গিয়েছে, বাড়ির মালিককে মোটা ভাড়ার লোভ দেখিয়ে ভাড়া নেয় প্রধান অভিযুক্ত ঘনশ্যাম হালদার৷ তল্লাশিতে নেমে সেই বাড়ি থেকে ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ জেরায় নাম উঠে আসে ঘনশ্যামের৷ ফোনের মাধ্যমে আলাপ ও পরে কাজ না হলে হুমকি৷ এভাবেই অপারেশন চালাত অভিযুক্ত৷

বারাসত থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার রাতে তল্লাশি চালায় সিআইডি৷ বারাসতের অশ্বিনীপল্লি থেকে অভিযুক্তের দাদা প্রভাস হালদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ধৃতদের পরিবারের সাফাই, ছেলে কী করে, তাঁদের জানা নেই৷

ঘনশ্যাম হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ কোটি টাকার প্রতরণার অভিযোগ রয়েছে৷ শুধু বারাসত নয়, নিউটাউন থানাতেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বারাসতের এই কীর্তিমানের বিরুদ্ধে ৷

স্বাআলো/এসএ