কোচিং শিক্ষকদের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত

বরিশাল ব্যুরো: ক্লাসের সময়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ ও শিক্ষকদের ইচ্ছা মাফিক রুটিন তৈরি করে নিয়ম বহিভূত কার্যক্রমের প্রতিবাদ করায় বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ জগদীশ সারস্বত গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহ আলমকে লাঞ্চিত করেছে সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন কোচিংবাজ শিক্ষক। এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্কুল প্রতিষ্ঠানটির অন্য শিক্ষকরা। মারধরের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন প্রধান শিক্ষক।

রবিবার সকালে স্কুলে বসেই প্রধান শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর করে সহকারী শিক্ষক কাওসার হোসেন।

আরো পড়ুন>>>  স্বামীকে খুঁজে দেয়ার কথা বলে গৃহবধূকে ধর্ষণ

সরেজমিনে গেলে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম স্কুলের শিক্ষকদের রুটিন তালিকা দেখিয়ে অভিযোগ করে বলেন,  স্কুলের শিক্ষকরা তাদের ইচ্ছেমতো রুটিন তৈরি করে ক্লাস করতে চাইলে এতে বাধা দেয়া হয়। তারা ইচ্ছামতো ৩য় শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীদেরকে চাপ প্রয়োগ করে স্কুলের ভিতরে কোচিং বাণিজ্য করছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, কয়েকজন শিক্ষক প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্যতামূলক কোচিং করিয়ে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন। সামান্য মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ফেল করার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এবিষয় একাধিকবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন ও সাবেক স্কুল কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাননি।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম আরো জানান, আমি ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ আগস্ট এই স্কুলে যোগদান করার পর থেকেই দেখতে পাই এখানে শিক্ষকদের স্কুলে আসা-যাওয়ার কোনো নিয়ম নীতি নেই। নেই কোনো স্কুলে শৃঙ্খলা। এসব কাজে বাধা দেয়ার পর থেকেই কয়েকজন শিক্ষক এক জোট হয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাকে প্রায়ই অপমান-অপদস্থ করেছে।

এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানায় জিডি করা হয়েছে। আর শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও সাবেক কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া আছে।

তবে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হামলাকারী সহকারী শিক্ষক কাওসার হোসেন। তিনি বলেন, আমি প্রধান শিক্ষককে মারধর করিনি, তবে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে।

স্বাআলো/এসএ