চুলের যত্নে জেনে নিন ভুল বোঝাবুঝির দিন শেষ

ডেস্ক রিপোর্ট: চুলের যত্নে কন্ডিশনারের গুরুত্ব রয়েছে। কন্ডিশনার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তা্ই চুল ও কন্ডিশনার নিয়ে কিছু কথা

ইনস্ট্যান্ট কন্ডিশনার: এটি শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে লাগাতে হয় এবং ২-৩ মিনিট রেখে আলতো করে ধুতে হয়। হালকা ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য উপকারী ইনস্ট্যান্ট কন্ডিশনার।

ডিপ বা গভীর কন্ডিশনার: ব্যবহারবিধি একই। ৫-১০ মিনিট চুলে রাখতে হয়। রাসায়নিক উপাদানে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য এটি প্রয়োজন।

লিভ ইন কন্ডিশনার: চুল শ্যাম্পু করার পর তোয়ালে দিয়ে মুছে তারপর সেই চুলে লিভ ইন কন্ডিশনার লাগাতে হয়। লিভ ইন কন্ডিশনার ধুয়ে ফেলতে হয় না। খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য লিভ ইন কন্ডিশনার উপযুক্ত।

চুলে তেল দেয়া: চুলে তেল দেয়া এক ধরনের কন্ডিশনার। তেল চুল গজাতে বা চুলে পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে না। তবে তেল ম্যাসাজ করলে স্ক্যালপে রক্ত সঞ্চালন হয় এবং চুল বাহ্যিকভাবে চকচকে ও মসৃণ হয়। হালকা গরম করে যে কোনো তেল মাথায় সপ্তাহে দুদিন ম্যাসাজ করা যেতে পারে। শ্যাম্পু করার ১-২ ঘণ্টা আগেও তেল মাথায় লাগানো যেতে পারে।

সুগন্ধি তেল পরিহার করাই ভালো। চুল স্বাভাবিকভাবে তৈলাক্ত হলে তেল না লাগানোই ভালো। কেননা এতে খুশকি হতে পারে। শুষ্ক চুলে অলিভ, নারিকেল, সানফ্লাওয়ার, বাদাম তেল যে কোনোটাই লাগাতে পারেন।

চুলের জন্য ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী: শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, তেল ছাড়াও চুলে বর্তমানে আরো কিছু উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো আসলে চুলের স্টাইলের কারণে ব্যবহার করা হয়।

হেয়ার স্প্রে: এটি এমন এক সলিউশন, যা চুল বাঁধার পরে বা স্টাইল করার পরে চুলে স্প্রে করলে চুল স্টাইলমতো থাকে। চুলের হেরফের হয় না। তবে স্প্রে চুলকে শক্ত করে দেয়। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের জন্য ক্ষতিকরও বটে।

হেয়ার জেল: তরুণ প্রজন্মের কাছে হেয়ার জেল খুব জনপ্রিয়। জেল দিয়ে নানাভাবে চুল আঁচড়ানো এবং বাঁধা আজকাল হাল ফ্যাশন। নিয়মিত ব্যবহারে এটিও ক্ষতিকর।

চুল সম্পর্কে ভুল ধারণা: চুল সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। যেমন-প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল ঝরে। আসলে শ্যাম্পু করলে মাথার চামড়া পরিষ্কার থাকে। তবে সব শ্যাম্পু প্রতিদিন ব্যবহার করবেন না। প্রতিদিন ব্যবহারের কিছু শ্যাম্পু আছে, যা ব্যবহারে চুল পড়ে না। দিনে ১০০ বার চুল আঁচড়ালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে বলে অনেকে বলেন। চুল বেশি আঁচড়ালে টান লেগে চুল পড়ে। দিনে পাঁচ-ছয়বার আঁচড়ানোই যথেষ্ট।

চুল বারবার কামালে ঘন চুল ওঠে বলে অনেকে মাথা ন্যাড়া করে। কিন্তু বেশিবার কামালে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে বরং চুল কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে থাকে। তেল দিলেও চুল ঘন হয় না। বরং জট লেগে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। গরম তেল মালিশ করলে হেয়ার ফলিকলে ক্ষতি হয়। তাই না করাই ভালো। চুল টাইট করে বেণি করে না ঘুমানোই ভালো। বেশি টাইট করে চুল বাঁধবেন না। এতে চুল উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

স্বাআলো/টিআই