১০ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

রংপুর ব্যুরো : একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষ। তারা বাঁশের ভাঙা সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। সম্প্রতি ভাঙা সাঁকো থেকে পড়ে মারা গেছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পীরগাছা উপজেলার প্রতিপাল গ্রামের বুড়াইল নদীর ওপর জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বার বার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও নির্মাণ হয়নি সেতুিট।

পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর প্রতিপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-পরান সড়কর বুড়াইল নদীর ওপর  গ্রামবাসী চাঁদা তুলে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচল করে। সাাঁকোটি ভেঙে গেলে আর মেরামত করা হয়নি। মাঝে দু’টি লম্বা বাঁশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। সম্প্রতি প্রতিপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র একই গ্রামের ছফি মিয়ার ছেলে মারুফ ওই সাঁকো পার হবার সময় পা ফসকে পড়ে গিয়ে মারা যায়।

গ্রামবাসী নুর আলম, আব্দুল করিম, আবুল হোসেন বলেন, সাঁকো দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য। এখানে কৃষি পণ্য রোপণ-উৎপাদন ও ফসল পরিবহনে আমাদের বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পরাণ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আব্দুস সোবাহান বলেন, বেশ কয়েক বার মাপযোগ করা হলেও সেতু হয়নি।

প্রতিপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেরামত আলী বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে সাঁকোটি। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। তাই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে না পেরে অনেকেই পড়া লেখা ছেড়ে দিয়েছে। সম্প্রতি মারুফ নামে এক শিক্ষার্থী মারাও গেছে।

তাম্বুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রওশন জমির রবু সরদার বলেন, ওই স্থানে সেতু নির্মানের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বাণিজমন্ত্রী টিপু মুনশি ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য কাগজপত্র ঠিক করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্বাআলো/কে