যে বীর পুলিশের জন্য বাঁচল দিল্লির শত শত মানুষের প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো পুলিশ কর্মকর্তা নীরাজ জাদাউনকে ‘হিরো পুলিশ’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে এখন।সাধারণ মানুষের জীবন সম্পদ সুরক্ষা দিতে নেয়া শপথ রক্ষায় তার এই জীবনবাজির ঘটনা আলোড়ন ফেলেছে সবার মধ্যে।  তাকে নিয়ে চলছে জয়ধ্বনি। ডাকা হচ্ছে ‘হিরো কপ’ (বীর পুলিশ) নামে।

ঘটনায় বর্ণনা করতে গিয়ে নীরাজ বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি সীমান্ত চৌকিতে টহল দিচ্ছিলেন তিনি। আচমকা তার অবস্থান থেকে ২০০ মিটার দূরে উত্তর-পূর্ব দিল্লির কারওয়াল নগরে থেকে তিনি গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পান।

এসময় তিনি দেখেন ৪০-৫০ জন মানুষের একটি দল যানবাহনে আগুন দিচ্ছেন আর তাদের মধ্যে একজন হাতে পেট্রল বোমা নিয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে জাদাউন সিদ্ধান্ত নেন তিনি পুলিশের ঐতিহ্যবাহী প্রোটোকল ভাঙবেন। এরপর প্রাদেশিক সীমানা ছেড়ে দিল্লি সীমান্তে প্রবেশের দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতে সীমানা ছেড়ে অন্য রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নানারকম অনুমতি নিতে হয় পুলিশকে। তবে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর যে তাড়া নীরাজ জাদাউনের ভেতর কাজ করেছিল তখন, তা রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন থেকে পিছপা হতে দেয়নি।

নীরাজ বলেন, ব্যাপারটি আসলে খুব বিপজ্জনক ছিলো। আমরা দাঙ্গাবাজদের চেয়ে সংখ্যায় কম ছিলাম আর তারা ছিলো সশস্ত্র। শুরুতে আমরা সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আমরা তাদের বলি, শান্ত হও- না হলে পুলিশ গুলি চালাবে। এ ঘোষণার পর তারা পিছু হটলেও সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের দিকে পাথর ছোড়া শুরু করে এবং আমরা গুলিরও শব্দ পেয়েছিলাম।

আরো পড়ুন>>>আতঙ্কের দিল্লি এখন থমথমে

তবে নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত হতে থাকায় অস্বস্তিতে পড়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা নিরাজ জাদাউন। তিনি বলেন, আমি নায়ক নই। আমি যে কোনো ভারতীয় রক্ষার শপথ নিয়েছি। আমি শুধুমাত্র আমার কর্তব্য করেছি কারণ চোখের সামনে মানুষ মরতে দিতে পারি না। আমরা থামানো মতো অবস্থায় ছিলাম আর সেটাই করেছি।

স্বাআলো/আরবিএ