আক্কেলপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বেআক্কেলী কাজ

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে অবহেলার কারণে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০১৯ সালের প্রাথমিক বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালের প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশিত হয় । পৌর সদরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬ টি করে বৃত্তির প্রাপ্যতা রয়েছে। আক্কেলপুর সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়টি পৌর সদরের ৩ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিস বিদ্যালয়টিকে ৮ নং ওয়ার্ডভুক্ত করে অধিদপ্তরে তথ্য পাঠায়। এতে ৩ নং ওয়ার্ডের প্রাথমকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০১৯ সালের প্রাথমিক বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আরো পড়ুন>>> চিপসের প্যাকেটে খেলনা দেয়া নিষেধ করেছেন হাইকোর্ট

বৃত্তির ফলে দেখা যায়, ৩ নং ওয়ার্ডে দুইটি কিন্ডার গাটেৃন এবং ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার কথা। কিন্তু সেখানে আক্কেলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৮ নং ওয়ার্ড দেখিয়ে তথ্য প্রদান করায় সরকারি বিদ্যালয়টি ৩নং ওয়ার্ডে নেই। যাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক নম্বর কম পেয়েও ওই দুইটি কিন্ডার গার্টেন, ফেয়ার আদর্শ স্কুল অ্যান্ড একাডেমী এবং কবি আতাউর রহমান বিদ্যানিকেতন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পেয়েছে।

আক্কেলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক আবদুল মোমিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের এরূপ দায়িত্ব অবহেলার কারণে আমার সন্তান ৫৪৯ নম্বর পেয়েও বৃত্তি পায়নি। এছাড়াও এই স্কুলের ৫৫৮, ৫৪৮, ৫৪৬, ৫৩৭, নম্বর প্রাপ্তরাও বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বরং একই ওয়ার্ডের পার্শ্ববর্তী বেসরকারি কিন্ডার গার্টেনে ৪৭৮ নম্বর পেয়ে শুভ্রনীল দাস এবং ৪৮০ এবং ৫০১ নম্বর পেয়ে বৃত্তি পেয়েছে। যদি এই বিদ্যালয়টি ৩ নং ওয়ার্ডে থাকত তাহলে প্রাপ্যতানুসারে আমার পুত্রসহ অন্যান্যরা সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্ত হতো। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। প্রকাশিত ফল সংশোধনের জন্য আমরা মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছি।

আক্কেলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিবরণীতে আমি পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড লিখে দিয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিস বিষয়টি ভুল করে ৮ নং ওয়ার্ড দেখিয়ে অনলাইনে তথ্য প্রেরণ করেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমি ছুটিতে রয়েছি। বিষয়টি আমার জানা নেই।

স্বাআলো/টিআই