আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের অয়ারেটাল কার্যক্রম ফের চালু

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা: ১ বছর পর আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের অয়ারেটাল কার্যক্রম পুনরায় চালু হতে হতে যাচ্ছে। সোমবার বিকাল ৪টায় অপারেটাল কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করেন পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের পাকশী ডিভিশনের ডিআরএম প্রকৌশলিী আশাদুল হক। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, সিগনাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন অফিসার ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট।

১ বছর আগে গত বছর ৩০ জানুয়ারি উপমহাদেশের একমাত্র দ্বিতল আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনটির অপারেটাল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এলাকার অনেক গৌণ রেলওয়ে স্টেশন চালু থাকলেও তিন জেলার ৪ উপজেলার মানুষের বহুল ব্যবহৃত আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনটি জনবলের অভাব দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনে অর্ধশতাধিক রেলস্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মূলত লোকবল সংকটে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রেলের পশ্চিম জোনের মধ্যে পাকশী ডিভিশনে রয়েছে ১৬৪টি স্টেশন এবং লালমনিরহাট ডিভিশনে স্টেশন আছে ৮০টি। পশ্চিম জোনে ১৮৮ জন স্টেশন মাস্টার ও ২৭১ জন ইঞ্জিন চালক পদ খালি রয়েছে। গত জুন মাসে আরো ৫০ জন ইঞ্জিন চালক অবসরে গেছেন। তাদের দিয়ে অতিরিক্ত ডিউটি করানো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তারা বর্তমানে তা করছেন। ৫০ জনের ওপর রেলওয়ে গার্ডের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে গার্ডদেরও ওভার টাইম ডিউটি করতে হচ্ছে। রেলের গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল পদ হচ্ছে পয়েন্টসম্যান। কিন্তু ১২০ জন পয়েন্টসম্যানের পদ শূন্য রয়েছে। লোকবল সঙ্কটের কারণে পশ্চিম জোনে শতকরা ৭০ ভাগ ট্রেন সিডিউল টাইমে চলাচল করতে পারছে না। ফলে যাত্রীরা ট্রেন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বন্ধ থাকা স্টেশন পার হওয়ার সময় মাত্র ১৬ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলে। এতে ট্রেনের পরিচালন সময় বেড়েছে। তাতেও রেলের রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়ছে। বন্ধ থাকা স্টেশনে জনবলের অভাবে নিয়মিত টিকিট বিক্রি করা যায় না। এতে রেলের রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলছে। এ সব স্টেশনে অভিভাবক না থাকায় টিকেটের কালোবাজারী বেড়েছে।

পাকশী রেলওয়ের ডিআরএম আশাদুল হক জানান, এখন শুধুমাত্র ঐতিহ্যবাহী আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হচ্ছে। পরে লোকবল নিয়োগ সাপেক্ষে বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্যান্য স্টেশন চালু করা হবে। রেলওয়ের চাকরি অত্যন্ত টেকনিক্যাল। রেলে নিয়োগ পাওয়ার পর দুই বছর রেল পরিচালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণের পর স্টেশন মাস্টার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন চালু করতে অবসরে যাওয়া স্টেশন মাস্টারকে চুক্তিভিত্তিক নিযোগ দেয়া হচ্ছে।

আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুণরায় চালু হওয়ার সংবাদে আলমডাঙ্গাবাসির মুখে হাসি ফুটেছে। আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন রক্ষা সংগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান ফারুক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, আশপাশের ৩-৪টি উপজেলার মানুষের এই স্টেশনটি চালুর দাবি ছিল অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব পেত রেলওয়ে বিভাগ।

উপমহাদেশে সর্ব প্রথম ১৮৬২ সালে হাওড়া থেকে কুষ্টিয়ার জগতি অবধি রেলওয়ে নির্মিত হয়। সে সময় দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও জগতি স্টেশন নির্মাণ করা হয়। আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন শুধু বাংলাদেশ না, উপমহাদেশের একমাত্র দ্বিতল স্টেশনের অনন্য গর্ব। এটি শুধু আলমডাঙ্গার গৌরব নয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের গৌরব তথা বাংলাদেশেরও গৌরব।

 স্বাআলো/এসএ