পুড়ে অঙ্গার ছয় বন্ধু, চেনা যাচ্ছে না লাশ

ডেস্ক রিপোর্ট: তারা সবাই বয়সে তরুণ। কথা ছিল শুক্রবার সকালে সিলেটের হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করে বিকেলে বাড়ি ফিরবেন সবাই। মাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে যাত্রা করেও যাওয়া হয়নি তাদের। নিয়তি যাত্রার মাঝপথেই তাদের থামিয়ে দিয়েছে। সকাল দেখার আগেই রাতের আঁধারে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হলো ছয় বন্ধু।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ভাটি কালীসীমা এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ওই ছয় বন্ধু নিহত হন।

নিহতরা হলেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জের দেউলী চৌরাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী নুরুল হকের ছেলে রিফাত (১৮), একই এলাকার রাজমিস্ত্রি আওলাদ হোসেনের ছেলে ইমন (১৭), খোরশেদ আলমের ছেলে গাড়িচালক সোহান (২২), নবীগঞ্জের দিলারবাড়ি এলাকার চায়ের দোকানদার আবুল হোসেনের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী সাগর (২০), আবুল হোসেনের কর্মচারী শামীম (১৬) ও আরেক কর্মচারী হারুন (৪২)।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রাত আড়াইটার দিকে ভাটি-কালিসীমা এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সুনামগঞ্জ থেকে আসা ঢাকাগামী লিমন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন ধরে যায়।

আরো পড়ুন>>>  মোবাইলে প্রেম, বিয়ের এক বছরেই লাশ হলেন শাহনাজ

তখন মাইক্রোবাসের ভেতরে থাকা ওই ছয় বন্ধু অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন আরো চারজন। তাদেরকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে শনাক্তকরণের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখে হাইওয়ে থানা পুলিশ। তবে আগুনে পুড়ে তাদের চেহারা চেনা যাচ্ছে না।

নিহত সাগরের মরদেহ চিনতে কষ্ট হয়েছে তার ভাই সজিবের। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, আগুনে পোড়া সবগুলো লাশ একরকম মনে হচ্ছে। কোনটি আমার ভাইয়ের লাশ সেটি চিনতে কষ্ট হচ্ছে।

শনাক্তকরণের পর মরদেহগুলো এক এক করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করছে হাইওয়ে থানা পুলিশ। মর্গে সারিবদ্ধভাবে রাখা পোড়া লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। কেমন জানি হাহাকারে ছেয়ে গেছে চারপাশ। সবাইকে চোখের জলে ভাসিয়ে বিষাদের পাহাড় নিয়ে এক এক করে স্বজনদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরেছেন ছয় বন্ধু।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম বলেন, নিহতদের স্বজনরা মরদেহগুলো শনাক্ত করেছেন। আইন মোতাবেক মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বাসচালক ও সহযোগীকে পাওয়া যায়নি। তাদের সন্ধান পেতে কাজ করছে পুলিশ।

স্বাআলো/এসএ