আখড়াবাড়িতে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব শুরু

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া: দৌলপূর্নিমা উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে আজ থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক লালন স্মরণোৎসব। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট লালন ফকিরের এই আধ্যাত্মিক বাণীকে সামনে রেখে বুধবার সন্ধ্যায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি লালন স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করবেন।

তবে এর আগেই একতারা দোতারা আর ঢোল বাঁশির সুরে আধ্যাত্মিক গানে ভরে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ি। ইতিমধ্যে হাজার হাজার লালন ভক্ত, অনুসারী ও দর্শনার্থীরা আখড়াবাড়িতে আসন পেতে বসেছেন। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এবার বিদেশি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আখড়াবাড়িতে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ভক্তদের খাটি বাউল করে গড়ে তুলতে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ তার জীবদ্দশায় ছেঁউড়িয়ার এই নিজ আখড়াবাড়িতে প্রতি বছর চৈত্রের দৌলপূর্ণিমা রাতে সাধু সঙ্গ উৎসব করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার মৃত্যুর পরও এ উৎসব চালিয়ে আসছেন তার অনুসারীরা। এখন এটি লালন স্মরনোৎসবে পরিণত হয়েছে।

এদিকে, আখড়াবাড়ি চত্বরে কালী নদীর তীরে বিশাল মাঠে বসেছে লালন মেলা। আর আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে লালন অনুসারী, ভক্তদের খন্ড খন্ড সাধু আস্তানায় গুরু শিষ্যের মধ্যে লালনের রীতি পালন চলছে। চলছে লালনের জীবন কর্ম নিয়ে আলোচনা ও তার গান। লালন উৎসব শেষ হবে আগামী ১০ মার্চ রাতে। বিশাল এই উৎসবকে নির্বিগ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, এবার আখড়াবাড়িতে লালনের নতুন একটি মূর‌্যাল ও একতারা স্থাপন করা হয়েছে। যেহেতু এখানে অনেক বিদেশি ভক্তরা আসেন। তাই করোনাভাইরাসের কারণে এবার বিদেশিদের এখানে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

স্বাআলো/ডিএম