ইতালি ফেরত শিক্ষককে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে করোনা আতঙ্ক!

চবি প্রতিনিধি: ইতালি থেকে পিএইচডি অর্জন শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগে যোগদান দিয়েছেন এক শিক্ষক। তাকে কোন প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই যোগদানের সুযোগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কবিরাজের মধ্যেই ঐ শিক্ষকের এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না কেউ।

জানা গেছে, ৫ বছর ধরে তিনি ইতালিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন। গত ৫ মার্চ তিনি দেশে ফেরেন। এরপর থেকে তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান শুরু করেন। গত ৮ মার্চ নিজ বিভাগের সভাপতি বরাবর যোগদানপত্র জমা দেন। বিভাগীয় সভাপতি সুমন গাঙ্গুলি এই যোগদানপত্র রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরণ করেন। কিন্তু ইতালি ফেরত এই শিক্ষকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই যোগদানের সুযোগ করে দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শুরু হয় আতঙ্ক।

বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ঐ শিক্ষক কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বিভাগসহ বেশ কিছু বিভাগের সেমিনারে অংশ নেন এবং বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। তিনি বিমানবন্দরে কোন ধরণের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সম্মুখীন হননি বলেও তার সহকর্মীদের জানিয়েছেন।

এদিকে এই ইতালি ফেরত শিক্ষকের যোগদানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইতালিতে পাঁচ বছর থেকে বাংলাদেশে আসার সময় এই পরিস্থিতিতে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরী ছিল। কিন্তু কোন ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই ওনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরাফেরার উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত ছিল প্রশাসনের।

ঐ শিক্ষকের নিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক জানান, তিনি ইতালি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে বিভাগে যোগদান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এ ধরণের পরিস্থিতিতে বিদেশ ফেরত শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য সরকারের বিশেষ নির্দেশনা থাকা। কারণ তারা অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেই যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকেন।

শিক্ষক সেলের একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার জানান, উনি ৮ মার্চ বিভাগে যোগদান করেছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোন ছাড়পত্র বা কাগজপত্র যোগদানপত্রে সংযুক্ত ছিল না। যদিও শিক্ষা ছুটি থেকে কোন শিক্ষক ফিরে এসে যোগদান করলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ছাড়পত্র লাগে না। কিন্তু এ ধরণের বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে ছাড়পত্র নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, আমরা ইতালি ফেরত ঐ শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে দিয়েছি। ওই শিক্ষককে আমরা ১৫ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শও দিয়েছি। এছাড়া করোনাভাইরাসের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে আমরা কিছু প্রস্তাবনাও দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিনই বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে শিক্ষক ও গবেষকরা যাওয়া আসা করছেন। তাদের নিয়ে কোন ধরণের সতর্কতামূলক উদ্যোগ এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন গ্রহণ করেনি। এসব শিক্ষকরা সরাসরি সভা, সেমিনার, ক্লাস, পরীক্ষা, সিম্পোজিয়ামে অংশ নেয়। এই শিক্ষকদের খুব কাছাকাছি থেকেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসবে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের প্রধান বাহন শাটল ট্রেন রয়েছে সবচেয়ে ঝুঁকিতে। কারণ ছোয়াচে এই ভাইরাস আক্রান্তদের কাছ থেকে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়তে পারে সুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কারণ শাটল ট্রেনে গাদাগাদি করে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। ফলে তাদের অসতর্কতার কারণে একজন শিক্ষার্থীও যদি আক্রান্ত হয় তাহলে তা মহামারি আকার ধারণ করতে পারে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে।

কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীও জনসাধারণকে পাবলিক পরিবহন ব্যবহার কমাতে বলেছেন। জনসমাগম যেখানে বেশি সেসব স্থান এড়িয়ে চলতে বলেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের মত জনাকীর্ণ বাহন এই মুহূর্তে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জীবনের কথা বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কিছুদিন বন্ধ রাখলে এই পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

এছাড়া বিদেশি অতিথি বা বিদেশ ফেরত শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের আগমনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিষয়ক ছাড়পত্র নেওয়ার ব্যবস্থা চালুও জরুরী বলে আমরা মনে করি।

স্বাআলো/এসএ