যে পরীক্ষায় শনাক্ত করা যায় করোনাভাইরাস

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাসে প্রাথমিক উপসর্গগুলো একেবারেই ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো। হালকা জ্বর, সর্দি, কাশি, একটু শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ লাগা এমন সব উপসর্গ পাওয়া গেলেই বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে কী পরীক্ষা করতে হয়?

সে সম্পর্কে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর বিবিসি বাংলাকে বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসটির কারণে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কিনা সেটা বুঝতে গলার ভেতরে এবং নাকের গোড়ার কাছ থেকে তুলা দিয়ে লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। আর এই পরীক্ষাটির নাম হল ‘রিয়াল টাইম পিসিআর’ বা রিয়াল টাইম পলিমারেস চেইন রিঅ্যাকশন।

এই পরীক্ষাটি করার সক্ষমতা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বাংলাদেশে শুধুমাত্র ঢাকায় অবস্থিত সরকারি সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইডিসিআর-এর ল্যাবে রয়েছে।

তিনি বলছেন, লালা ছাড়া শরীর থেকে আর কোন নমুনায় এই ভাইরাস ধরা পড়ে না। জ্বর বা কাশির জন্য সেসব চিকিৎসা দেয়া হয় সেটাই দেয়া হয়। সমস্যা হল এই রোগের অ্যান্টিবায়োটিক এখনো নেই।

ড. বেননুর বলেন, লালা পরীক্ষায় যদি ভাইরাসটি শনাক্ত হয়, তখন আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের সার্বিক অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে, সংক্রমণের মাত্রা, তার রক্তের কণিকা কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটি বোঝার জন্য ব্লাড কাউন্ট করা যেতে পারে। এছাড়া এই ভাইরাসের কারণে তার নিউমোনিয়া হয়েছে কিনা সেটা বুঝতে বুকে এক্সরে করা যেতে পারে।

এই ধরনের আনুষঙ্গিক পরীক্ষাগুলো করা হয় রোগ শনাক্ত হওয়ার পর।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রমণ রোগ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিচালক শাহনীলা ফেরদৌস বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে সাধারণ ল্যাবের চেয়ে অধিক সক্ষমতা সম্পন্ন ল্যাব দরকার হয় যা হচ্ছে ‘বায়োসেফটি টু প্লাস’ বা ‘বিএসএলটু প্লাস’ মানের।

তিনি বলছেন, ভাইরাসটি যাতে গবেষণাগার থেকে বের হতে পারে সেজন্য এমন বিশেষ গবেষণাগার দরকার হয়।

ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ও চট্টগ্রামে ইনফেকশাস ডিজিজ হাসপাতালের ল্যাবগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে ‘বায়োসেফটি টু প্লাস’ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন>>>   করোনাভাইরাস: মানিকগঞ্জে ১০৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

তবে তিনি বলছেন, শরীর থেকে এই ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। যেহেতু আইইডিসিআর এই কাজটি ইতিমধ্যেই করছে, তাদের সক্ষমতা রয়েছে। আর তাই এটি আপাতত তারাই করছে।

সূত্র: বিসিবি বাংলা।

স্বাআলো/এসএ