জেলা প্রশাসনের নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন সাংবাদিক আরিফ

4

ডেস্ক রিপোর্ট: জামিনে মুক্ত বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে রবিবার কারাগার থেকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে যান। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রবিবার দুপুর দেড়টায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আরিফুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ধরে নেয়া এবং নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে আরিফ বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার পর খেয়ে একজন বাড়ির দরজায় ধাক্কা দেন। পরিচয় জানতে চাইলে কেউ পরিচয় জানাননি। পরে আমি সদর থানার ওসিকে ফোন দেই। ফোন দেয়ার কথা শুনে বাইরে থাকা আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন লোকজন দরজা ভেঙে বাসায় ঢোকে। ঘরে ঢুকেই আরডিসি নাজিম উদ্দিন আমার মাথায় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। মারতে মারতে আমাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে চোখ-হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। এরপর আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এনকাউন্টার দিতে চায়। আমাকে বারবার বলে, তুই কলেমা পড়ে ফেল, তোকে এনকাউন্টার দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন>>>  কুড়িগ্রামের ডিসি প্রত্যাহার, নেয়া হচ্ছে বিভাগীয় ব্যবস্থা

ভয়াবহ সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, এসময় তাদের আমি অনেক অনুনয় বিনয় করি। আমি আমার প্রাণ ভিক্ষা চাই। বলি, আমার দু’টি সন্তান আছে। আমাকে যেন না মেরে ফেলা হয়। তাহলে আমার বাচ্চা দুটি এতিম হয়ে যাবে। পরে তারা আমাকে গাড়িতে করে একটি ভবনে নিয়ে যায়। আমি চোখের কাপড় একটু খুলে বুঝতে পারি এটা ডিসির কার্যালয়। আবার নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে এবং বলে তোর ভিডিও করে রাখছি। এসময় অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। এসময় নাজিম উদ্দিন বারবার আরেকজনকে বলছিলেন, ডিসি স্যারকে ফোন দাও।

তিনি আরো বলেন, আমি বারবার জানতে চেয়েছি, আমার অপরাধ কী? তখন নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘তুই আমাদের অনেক জ্বালাছিস। তোকে সাংবাদিকতা শেখাবো।’ এরপর চোখ বাঁধা অবস্থায় চারটি কাগজে সিগনেচার নেয়। রাতেই আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। আমাকে কেন কারাগারে পাঠানো হলো এবং কেন ধরে আনা হলো কিছুই বলা হয়নি। এমনকি কারাগারে আমার সঙ্গে এক মাস কেউ যেন সাক্ষাৎ করতে না পারে এবং আমার যেন চিকিৎসা দেয়া না হয়, এজন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

স্বাআলো/এসএ