ভুয়া নিয়োগ দিয়ে মাদ্রাসা সুপারের অর্থ বাণিজ্য

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদর উপজেলায় হাড়িভাসা দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কৌশলে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ তদন্ত করেন।

গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর এমদাদুল হক নামের এক ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগও করেন তার বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগে জানান, ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বরে দৈনিক মানব জমিন পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে তিনি মাদ্রাসায় ‘প্রদর্শক’ পদে চাকরির আবেদন করেন। ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য মাদ্রাসা সুপারের চাহিদানুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা সুপারকে দেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণও হন এবং একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্রও দেয়া হয় তাকে।

এমদাদুল জানান, শর্ত অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে মাদ্রাসায় যোগদান করে ওই পদে সকল দায়িত্ব পালন করলেও এখন পর্যন্ত বেতন ভাতার হদিস মেলেনি। অফিস হাজিরা খাতায় কখনো উপস্থিতি স্বাক্ষরও করতে দেয়া হয়নি তাকে। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, মাদ্রাসার সুপার আবুল হাশেম তাকে গোপনে অবৈধ নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এমদাদুল আরো জানান, মাদ্রাসায় ভোকেশনাল শাখার জন্য অবৈধ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগপত্র দিয়ে তার মত আরো তিন জনের সাথে প্রতারণা করেছেন সুপার।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গত ৩০ ডিসেম্বর মাদ্রাসা সুপারকে ৫ দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামত সম্বলিত জবাবপত্র দাখিলের নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত কোন জবাবপত্র দাখিল করেননি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার বলেন, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পুর্ণ অস্বচ্ছ ও অবৈধ ছিল এবং সুপারের বক্তব্যেও গড়মিল পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকের দফতরে।

গত ৫ মার্চ মনসুর রহমান নামের আরেক ভুক্তভোগি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনসুর রহমানের স্ত্রীকে মাদ্রাসার আয়া পদে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মাদ্রাসার সুপার আবুল হাশেম তার কাছে দুই লাখ টাকা নেন। দীর্ঘ দিনেও কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে একই পদে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে সুপার একাধিক প্রার্থীর কাছে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। সুপার আবুল হাশেম বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে আমি কিছুই জানিনে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্প্রতি মাদ্রাসার সুপার আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি জেলা প্রশাসক। তিনি এর কিছুই জানেন না ।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে পাইনি। যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ প্রমাণিত হয় তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাআলো/টিআই/কে