মুজিববর্ষে ফিরে আসুক বঙ্গবন্ধুর সততা ও ত্যাগের আদর্শ

আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। ১৯২০ সালের আজকের দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি। তাঁর জীবনের অসংখ্য ত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের। এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে এই ভূখন্ডের অসংখ্য যুবক-তরুণ আত্মত্যাগ করেছেন। রাজনৈতিকভাবে অনেক পথ পাড়ি দিয়েছেন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদরা। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হকসহ সেইসব রাজনীতিবিদরা আমাদের কাছে নমস্য। যাদের কাছে রাজনীতিক পাঠ নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। সময়ের ব্যবধানে সেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের কোটি জনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্রের।

তবে যার ডাকে মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেই বঙ্গবন্ধুকে সারাজীবন এজন্য সাধনা করতে হয়েছে। স্বীকার করতে হয়েছে অসংখ্য ত্যাগ। বরণ করতে হয়েছে কারা। দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে এই অসম্ভব ত্যাগ স্বীকার করেছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘ তিন হাজার  ৫৩ দিন কারারুদ্ধ ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে চলা ধর্মঘটের সময় সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় কারাবরণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এই দাবিতে ধর্মঘট চলাকালে ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে আটক করা হয় তাকে। এরপর ১৯৫৪ সালের ৩০ মে, ১৯৫৮ সালে ১১ অক্টোবর, ১৯৬৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে আটক করে তৎকালীন সরকার। এছাড়াও ১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জননিরাপত্তা আইনে আটক করা হয়। ১৯৬৫ সালে প্রথম তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে আটক করা হয়। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এই দাবি ছিলো বাঙালির মুক্তিরসনদ। পরে এই ছয় দফার প্রচারণা চালানোর সময় সারাদেশ থেকে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বঙ্গবন্ধুকে আটবার আটক করা হয়। কিন্তু কোনভাবেই যখন তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাচ্ছিল না ঠিক তখনই ১৯৬৮ সালে তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে আটক করা হয়। কিন্তু ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত করে। এরপর ১৯৭০ এর নির্বাচন, ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সব ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশেই চলেছে বাংলাদেশের মানুষ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তাঁর অবর্তমানে তাঁরই নামে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তৎকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ। এর আগে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন।

স্বাধীনতার পর নয়ারাষ্ট্র গঠনের সংগ্রামে অবতীর্ণ হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এজন্য গ্রহণ করেন নতুন অর্থনীতি, নির্ধারণ করেন নতুন পররাষ্ট্রনীতি।  যার আলোকে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবার প্রয়াস চালায়। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে থাকে হত্যা করা হয়। এর মধ্য দিয়েই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ইতি ঘটে। তবে ভাগ্যক্রমে দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আজ কোটি কোটি বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করছে।

তাই তাঁর শততম জন্মবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে আমরা আশা করছি ফিরে আসবে বঙ্গবন্ধুর সততা ও আদর্শ। যার আলোকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এক অনন্য নজির স্থাপন করবে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ হবে এক অনুকরণীয় রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্র হবে পৃথিবীর তাবৎ মানুষের আদর্শ।

স্বাআলো/ডিএম