করোনার কারণে এবার হজ স্থগিত হতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের হজ স্থগিত রাখা হতে পারে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই সৌদি সরকার তাদের গ্র্যান্ড ফতোয়াবোর্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফতোয়াবোর্ড ও ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছে বলে জানা গেছে। মহামারী, সঙ্ঘাত ও যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে হজ স্থগিত রাখা কিংবা সীমিত আকারে পালনের নজির রয়েছে। ইসলামী বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে হজ স্থগিত রাখা যেতে পারে। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ মুসলমান হজ পালন করার জন্য সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে যান।

হজের সময় সৌদি আরবে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। প্রচণ্ড গরমের কারণে তখন করোনা বিস্তারের আশঙ্কা কম। ততদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি সৌদি আরবে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে বহির্বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বাইরের লোকদের সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি সৌদি সরকার কোনোভাবেই দেবে না। সে ক্ষেত্রে বাইরের লোকদের জন্য হজ বন্ধ রেখে সৌদি আরবে বসবাসরদের জন্য সীমিত আকারে হজের অনুমতি দেয়া হতে পারে।

চীনের পর ইরান এবং সর্বশেষ ইতালিসহ অন্যান্য দেশে করোনা যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে আসন্ন রমজানে মসজিদুল হারামাইনে এতেকাফসহ ওমরাহর অনুমতি দেয়ার সম্ভাবনা নেই। রমজানের আগে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে হজের ব্যাপারেও চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

ইসলামের ইতিহাসে এর আগেও বহুবার রোগ, সঙ্ঘাত, দস্যু ও আক্রমণকারীদের তৎপরতা বা অন্যান্য কারণে হজ বাতিল করা হয়েছে এবং এই হিসেবে হজ বন্ধ করা নিয়ে মানুষের আশঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়।

সম্প্রতি সৌদি কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অ্যান্ড আর্কাইভস ইতিহাসে ৪০ বার হজ বাতিল করা হয়েছিল বা হজযাত্রীর সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল উল্লেখ করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

আগামী ৩০ জুলাই হজের সম্ভাব্য তারিখ এবং বাংলাদেশ আগামী ২৩ জুন থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনার কথা। বাংলাদেশেও হজ এজেন্সি এবং হজযাত্রীদের মধ্যে হজ না হওয়ার শঙ্কা বিরাজ করছে। এ কারণেই গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হজের নিবন্ধনে একেবারেই ধীরগতি লক্ষণীয়। এ বছরের এক লাখ ৩৮ হাজার ১৯৮জন হজযাত্রীর কোটার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ১৬ হাজার ৪৮ জন নিবন্ধন করেছেন, যা মোট হজযাত্রীর ১২ শতাংশের একটু বেশি। প্রথম দফায় নিবন্ধনের সময় দেয়া হয়েছিল ১৫ মার্চ। পরে তা ১০ দিন বৃদ্ধি করে ২৫ মার্চ করা হয়েছে।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এ জন্য হজযাত্রীদের পাসপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়া এবং সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে না পারাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। হজ স্থগিত হওয়ার আশঙ্কার ব্যাপারে তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হাবের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, হজ হওয়া না হওয়া নিয়ে হজযাত্রী এমনকি এজেন্সিগুলোর মধ্যেও একটি শঙ্কা কাজ করছে। ফলে হজযাত্রীরা যেমন দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন অনেক এজেন্সি মালিকও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

স্বাআলো/এএম/কে