শুভ জন্মদিন সরকারি এম এম কলেজ

শুভ জন্মদিন সরকারি এম এম কলেজ। লাখো ছাত্রের ভালোবাসার ক্যাম্পাস আমাদের এই বিদ্যাপীঠ। প্রিয় এই বিদ্যাপীঠের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১৮ই মার্চ। সূর্য ডুবেছে, সূর্য উঠেছে তারপর মাস পেরিয়ে বছর থেকে যুগের সৃষ্টি হয়েছে আর এদিকে এম এম কলেজের সুনাম আর পথচলা সামনের দিকে ধাবিত হয়েছে, হচ্ছে। বিভিন্ন রং, ঢং আর মতাদর্শের ছাত্রের আনাগোনায় মুখরিত হয়েছে কলেজের দক্ষিণ গেট থেকে আসাদগেট কিংবা পুরাতন হলসহ বিভিন্ন আঙ্গিনায়।

এই ক্যাম্পাসের পটভূমিতে রচিত হয়েছে ইতিহাস আর সংগ্রামের মহানায়কদের যাদের কেউ ভাষাসৈনিক, কেউ মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের হালচাল বদলে দিতে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে কলেজটি রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশের কৃষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এই কলেজের ছাত্রদের যেমন ভূমিকা আছে ঠিক তেমনি ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে এই কলেজের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারিদের রয়েছে সরাসরি অংশগ্রহণ। তাই এই কলেজের গুরুত্ব সার্বজনীন।

১০০ ছুঁই ছুঁই কলেজটির অবস্থান যশোর শহরের কেন্দ্রে, তাই আঞ্চলিক ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে এই কলেজের ছাত্র ও শিক্ষকদের ভুমিকা আলোচিত হয়ে থাকে। হোক সে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক। প্রতিষ্ঠার ৬ যুগ পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পাসের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন তেমন একটা চোখে পড়ে না।

অনেকদিন ধরে ছাত্রদের দাবীসহ সব মহলের দাবী ছিলো, কলেজটিতে একটা আধুনিক মানের Auditorium, আধুনিক মানের একটা Library, আবাসন সংকট পূরণে অন্তত আরো ৮-১০টি Hostel, যাতায়াতের সুবিধার জন্য আরো ১০-১২টি Bus এবং College Canteen এর। এ সব দাবী অ-নে-ক দিনের।

শরতের পর বর্ষা আসে তারপর কেউ ভুলে যায়, কেউ চম্বুক অংশের কাজ করে কিংবা কেউ এসব দাবীতে আর শ্লোগানে মুখরিত করেন না ক্যাম্পাস। Actually সময়ের পরিক্রমায় উপরের দাবীগুলো পাওয়ায় ছিলো আমাদের অধিকার, কোনো করুণা নয়। অনেক নেতা গেছেন, নেতার অধস্তনরাও নেতা হয়েছেন অথচ আমাদের দাবীগুলো মুখ থুবড়ে পড়েই থেকেছে! আমরা আমাদের অধিকার চাই।

ঐতিহ্যবাহী এই কলেজে আমাদের আবাসন, যাতায়াত, অডিটোরিয়াম, ক্যান্টিন চাই। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়, কলেজের রাজনৈতিক ছাত্র প্রতিনিধি, দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সব মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, দক্ষিণ বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ এই কলেজটিতে ছাত্রছাত্রীদের বিকাশ কল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

লেখক: খানজাহান আলী শান্ত

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ‘আহবান’ সরকারি এম এম কলেজ ইউনিট,  সদস্য, ‘যশোর এম এম কলেজ এল্যামনাই অ্যাসোসিয়েশন (প্রস্তাবিত কমিটি)

স্বাআলো/আ