চিতলমারী বধ্যভূমিতে নির্মাণ করা হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার খলিশাখালীর চিহ্নিত বধ্যভূমিতে নির্মাণ করা হয়নি স্মৃৃতিস্তম্ভ। যা একটি সাইনবোর্ড দিয়ে  অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে।

প্রতি বছর ২৬ মার্চ এখানে মোমবাতি জ¦ালিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন আর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় সেদিনের শহীদদের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ও  মুক্তিযোদ্ধা মানিক লাল মজুমদার বলেন, খলিশাখালীর  এ বধ্যভূমি সরকারিভাবে চিহ্নিত করা হয় ২০১৭ সালে। তখন থেকে প্রতি বছর এখানে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ বেলা ১১ টার দিকে পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা মিলে খলিশা খালীতে আকস্মিক হামলা চালায়। বলেশ্বর নদী দিয়ে গানবোটযোগে বাবুগঞ্জ বাজারে এসে তারা খলিশাখালী গ্রামে প্রবেশ করে। প্রবেশ পথে তারা এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালায় এবং বাড়ি ঘরে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ঘটায়। ওই সময় পিরোজপুর, নাজিরপুর, উজিরপুর ও বাগেরহাটের কচুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ যারা নিরাপদ আশ্রয় মনে করে আশ্রয় নিয়েছিল তারা এবং গ্রামবাসী গুলির শব্দে প্রাণভয়ে এদিক ওদিক পালাতে থাকে। পাকবাহিনীর গুলির শব্দে তারা উপজেলার খলিশাখালী ও পূর্বখড়মখালী গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে হোগলা ও নলবনে লুকিয়ে থাকার জন্য আশ্রয় নেয়। এ সময় পাকবাহিনী তাদের ওপরে নির্বিচারে গুলি চালায়। সেদিন এখানে অর্ধশতাধিক লোক শহীদ হন।

উপজেলার পূর্ব খড়মখালী গ্রামের বৃদ্ধ গৌর চন্দ্র মজুমদার সেদিনের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, পাকবাহিনীর গুলিতে খড়মখালী গ্রামের বিমল কান্তি হীরা, ভদ্র কান্তি হীরা, রাজদেব হীরা, যোগেন্দ্র নাথ মজুমদার, মহেন্দ্র নাথ মন্ডল, আদিত্য মজুমদার, নীল কমল মন্ডল, জিতেন মজুমদার, খগেন মন্ডল (খোকা), অমীয় চৌকিদারের ভাইসহ আশপাশের এলাকা থেকে আশ্রয় নেওয়া অসংখ্য লোক সেখানে শহীদ হন।

খড়মখালী গ্রামের প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা বিমল রাণা ও মনিমোহন হীরা বলেন, এ বধ্যভূমি চিহ্নিত হওয়ার পর ৪ বছর পার হলেও শহীদদের স্মরণে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। নেই কোন স্থায়ী আলোর ব্যবস্থা। বধ্যভূমির পবিত্রতা রক্ষার্থে গরু-ছাগল ও বখাটেদের অনুপ্রবেশ বন্ধের জন্য একটি বাউন্ডারী হওয়া আবশ্যক।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম জানান, আগামী ২৫ মার্চ রাতে খলিশাখালী বধ্যভূমিতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। ওখানে একটা স্থায়ী আলো ও সীমানা প্রচীর নির্মাণের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স্বাআলো/কে