করোনা: পাঁচ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনার আতঙ্কে দেশে যেন স্বেচ্ছাবন্দীর কার্যক্রম চলছে। জনগন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা। ঈদের ছুটির আমেজের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু জনগণের মধ্যে নানা রকম আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তাও কাজ করছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ নানা রকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছেন। আর এই পরিস্থিতির কারণে মনে হচ্ছে করোনা নিয়ে সরকার পাঁচটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে এবং এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করাই সরকারের জন্য এখন সবথেকে বড় কাজ।

করোনা নিয়ে প্রস্তুতির অভাব: করোনা নিয়ে প্রস্তুতি নিতে সরকার দুই মাসের মতো সময় পেয়েছিল। এই দুই মাসে সরকারের যে প্রস্তুতি নেয়ার কথা ছিল তা এই সরকারের নেই। চিকিৎসকদের পারসোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট থেকে শুরু করে আইসিইউ ইউনিট, এমনকি বিদেশ থেকে যারা আসবেন তাদেরকে কিভাবে রাখা হবে, তাদেরকে কিভাবে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে, যারা বিদেশ থেকে আসবেন এবং লক্ষণ দেখা যাবে তাদের কিভাবে দ্রুত পরীক্ষা করা হবে এসব ক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব দেখা যাচ্ছে। এটাকে সমন্বিত করা, সুষ্ঠ পরিকল্পনা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দক্ষতা অর্জন করা সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

লকডাউন নিয়ে দোটানায়: করোনা নিয়ে সফল যে দেশগুলো, তাদের প্রথম পদক্ষেপ ছিল লকডাউন করে জনগণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এখন লকডাউন নিয়ে সরকার দোটানায় আছে। সরকার মনে করছে, নিম্ন আয়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠী লকডাউন করলে কিভাবে চলবে। তাছাড়া মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেতনভাতা না পেয়ে লকডাউন করার ফলে সমস্যা আরো জটিলতর হতে পারে। এমন নানা সমস্যা নিয়ে দোটানায় রয়েছে সরকার। কিন্তু এই থেকে দ্রুত একটা উপায় বের করতে হবে। যত দ্রুত জনসমাগম এবং জনগণের চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তত করোনা মোকাবেলা সহজ হবে এবং এই ক্ষেত্রেও সরকার একটি চ্যালেঞ্জের মুখে।

অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা করা: ইতিমধ্যে গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা দেখা গেছে। অনেক পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অর্ডার ইউরোপীয় এবং আমেরিকান ক্রেতারা নাকচ করে দিয়েছে। সেখানে তারা নূন্যতম পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়নি। শুধু গার্মেন্টস শিল্প নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক মন্দার বাতাস বইতে শুরু করেছে। এই করোনা পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হতে থাকবে তত এই অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক থেকে নাজুকতর হতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ১১ বছরে সরকারের সবথেকে বড় দিক ছিল, সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখেছে। সেই অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে তাহলে অবশ্যই সরকার একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

দ্রব্যমূল্যের বাজার পরিস্থিতি: করোনার সুযোগে এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা মাঠে নেমে তদারকি করছে। তবে সেটা যথেষ্ট নয় বলে ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ মনে করছে। দ্রব্যমূল্যের দাম, বিশেষ করে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। এটা যদি আরো বৃদ্ধি পায়, তাহলে তা সাধারণ মানুষের জন্য এক কঠিন অবস্থা তৈরি করবে এবং এটা মোকবেলা করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

গুজবের মহামারী: করোনার পাশাপাশি গুজবের মহামারী চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা নিয়ে নানারকম গালগল্প, গুজব, মিথ্যার ছড়াছড়ি হচ্ছে নিয়ন্ত্রনহীনভাবে। এই গুজব সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ক্ষোভ-অসন্তোষ তৈরি করছে। অনতিবিলম্বে এই গুজব নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে। না হলে এই সমস্ত গুজবের কারণে সরকারের প্রতি এক ধরণের অনাস্থা সৃষ্টি হবে।

স্বাআলো/ডিএম