করোনা : ভারতের ৭২০ জেলার মধ্যে ৫৬০টিতে লকডাউন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাস ঠেকাতে প্রায় পুরো ভারতই কার্যত লকডাউন অবস্থায় আছে। দেশটির ৩২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের  ৭২০টি জেলার মধ্যে ৫৬০টি জেলা পুরোপুরি ‘লকডাউন’ করা হয়েছে ।

এখন পর্যন্ত ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৪৯৬ জনকে শনাক্তের কথা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মারা গেছে ৯ জন।

দেশটির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ায় সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার আরও বেশ কিছু নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যারা ‘লকডাউন’ বিধিনিষেধ মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় মনিপুর রাজ্যে যুক্তরাজ্যফেরত ২৩ বছর বয়সী এক নারীর দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

দেশটির উত্তরপশ্চিমের রাজ্যগুলিতে এটাই প্রথম কোনো কভিড-১৯ রোগী, বলছে এনডিটিভি।

আক্রান্ত নারী যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতেন; তাকে মনিপুরের রাজধানী ইমফলের জওহরলাল নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

কোয়ারেন্টিনে থাকা তার পরিবারের সদস্যদের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত নারীর সংস্পর্শে আর কারা কারা এসেছিলেন তাদেরও খোঁজ চলছে।

ভারতের মহারাষ্ট্র ও কেরালা, এই দুই রাজ্যেই কভিড-১৯ এ আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মহারাষ্ট্রে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এদিকে পাঞ্জাবের কয়েক হাজার প্রবাসী ঘরের পথে থাকায় সোমবার থেকে সেখানেও কারফিউ জারি করা হয়েছে।

কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কভিড-১৯ এ ৫৭ বছর বয়সী এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ রোগীর সাম্প্রতিককালে বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস নেই বলে জানা গেছে। এ কারণে রাজ্যটিতে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের ‘সামাজিক সংক্রমণ’ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে।

সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টুইটে সাধারণ জনগণ জারি করা সতর্কতা না মানায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

“অনেকেই লকডাউনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। দয়া করে নিজেকে বাঁচান, পরিবারকে বাঁচান, নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিন। রাজ্য সরকারগুলোকে আমি আইন ও নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি,” বলেছেন তিনি।

লকডাউনের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন রাজ্য সরকারও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে আগেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, যাত্রীবাহী ট্রেন ও আন্তঃরাজ্য বাস সার্ভিস বন্ধ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও একই বিধিনিষেধ আরোপ হয়।

এয়ারলাইন্সগুলোকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে অবতরণের প্রস্তুতি নিতে হবে, বলেছে সরকার। এসময় কেবল মালবাহী ফ্লাইট চালু থাকবে।

‘সামাজিক দূরত্ব’নিশ্চিত করতে মেট্রো যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুজব ঠেকাতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে ছাপা কাগজ, ইলেকট্রনিক কিংবা সোশাল মিডিয়ায় সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ বা শেয়ার করার বিষয়ে সতর্ক করেছে সরকার।

দিল্লিতে রোববার থেকে কারফিউ জারি রয়েছে। পুলিশ এ শহর ও এর আশপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে ‘কারফিউ পাস’ বাধ্যতামূলক করেছে।

করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়সূচির দুই সপ্তাহ আগেই সোমবার ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি ঘোষণা করা হয়েছে।

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স মঙ্গলবার থেকে তাদের বহির্বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দেওয়া চিকিৎসা সেবারে পাশাপাশি নতুন রোগীর নিবন্ধন ও পুরনো রোগীদের ফলোআপ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে হাসপাতালটি তাদের সব অপারেশন ও দরকারি নয় এমন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাও বন্ধ রেখেছে।

কারাগারের ভিড় কমাতে কোন কয়েদিদের প্যারোলে মুক্তি দেয়া যায় তা ঠিক করতে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে উচ্চপর্যায়ের কমিটি করতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।