আমতলী থানার ওসি প্রত্যাহার

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা: বরগুনার আমতলী থানা হাজতে সন্দেহভাজন আসামি শানু হাওলাদারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ওসি আবুল বাশারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের এক আদেশে বরিশাল ডিআইজির নির্দেশে বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন পিপিএম স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে, একই ঘটনায় আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, থানায় আসামির মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কাজ শুরু করেছি। অল্প দিনের মধ্যেই তদন্ত কাজ শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে আমতলী থানার ওসি আবুল বাশারকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর) মহব্বত আলী ও সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল ইসলাম।

এদিকে ওসিকে প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

ওসি আবুল বাশারের প্রত্যাহারের ঘটনায় সন্তোষ জানিয়ে শানু হাওলাদারের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি। তিনিই টাকা না পেয়ে আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। আমি হত্যাকারী ওসির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামে ২০১৯ সালে বছর ৩ নভেম্বর ইব্রাহিম নামের একজনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলার এজাহারে নিহত শানু হাওলাদারের সৎ ভাই মিজানুর রহমান হাওলাদারকে আসামি করা হয়। ওই আসামির ভাই শানু হাওলদারকে গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহেন্দভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমতলী থানা পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। শানুর ছেলে মঙ্গলবার থানায় এসে তাকে খাবার দিয়ে যান। তবে বুধবার পরিবারের লোকজন এসে শানু হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। উল্টো পরিবারের লোকজনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করে তার স্বজনরা। বৃহস্পতিবার সকালে থানা থেকে খবর দেওয়া হয় শানু হাওলাদার পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে পরিবারের অভিযোগ, শানুকে ধরে নিয়ে আসার পরে আমতলী থানা ওসি আবুল বাশার ও পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি তার পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তপণ দাবি করে। শানুর ছেলে ১০ হাজার টাকা ওসিকে দেন। দাবি করা বাকি টাকা দিতে না পারায় শানুকে থানা হাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

শানু হাওলাদারের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, ‘বিনা অপরাধে আমার বাবাকে পরিদর্শক (তদন্ত) ধরে এনে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছে। আমি দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার বাবাকে নির্যাতন করেছে। বাবার ওপর নির্যাতন যাতে বন্ধ হয় সেজন্য মঙ্গলবার দুপুরে আমি তাকে ১০ হাজার টাকা দিই। কিন্তু টাকায় ওসি তুষ্ট হয়নি। নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। বুধবার সকালে আমি বাবার সঙ্গে দেখা করতে থানায় আসি। কিন্তু আমাকে দেখা করতে না দিয়ে ওসি আবুল বাশার ও পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। ওসি বলে, টাকা নিয়ে আসো, তারপর দেখা করতে দেবো।’

তবে ঘটনার পর ওসি আবুল বাশার দাবি করেছিলেন, শানু হাওলাদার বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে ওয়াশ রুম থেকে ফিরে এক ফাঁকে হাজত খানার ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। তবে হাজতখানায় কোনও ফ্যান নেই সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের পর তিনি পূর্বের কথা পাল্টে বলেন, পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জনের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয় শানু হাওলাদারকে। এ ঘটনার পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মামলা হয়নি। এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের সকলের বিচার দাবি করেছেন।

স্বাআলো/এসএ