করোনা মোকাবেলায় সরব হিরো আলম, বেখবর শাকিব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বনমরিচা গ্রামের বাসিন্দা  সুন্দরী বেওয়া (৬০)। মানুষের বাড়িতে ভিক্ষা করে দিন চলে তার। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লোকজনের চলাচল সীমিত  হওয়ায় এখন ভিক্ষা বন্ধ। তাই খাওয়াও প্রায় বন্ধ তার।

এমন খবর পেয়ে সুন্দরীর বাড়িতে ব্যাগভর্তি চাল, ডাল, তেল, লবণ নিয়ে হাজির হন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। এসময় প্রতি মাসে বৃদ্ধাকে আর্থিক সহযোগিতা পাঠানোর প্রতিশ্রতিও দেন তিনি।

শুধু সুন্দরী বেওয়া নন, করোনার কারণে বেকার হয়ে পড়া কর্মহীন শ্রমজীবী পাঁচশতাধিক পরিবারে ব্যাগভর্তি খাবার পৌঁছে দিয়েছেন হিরো আলম। বগুড়া সদর, শেরপুর, কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভ্যানে করে মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেন তিনি। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে আছে পাঁচ কেজি চাল, আটা, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল ও লবণ।

বিপরীতে করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগে কোন খবর নেই বাংলাদেশের সিনেমা জগতের বড় তারকা শাকিব খানের। আর্থিক দিক দিয়ে তিনি বেশ সম্পদশালী। কিন্তু চলমান করনাভাইরাসের দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে নেই তিনি। তিনি রীতিমতো বেখবর। যদিও ভারতে করোনা মোকাবেলায় সিনেমা জগতের বড় বড় তারকারা এগিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির ত্রাণ তহবিলে একাই ২৫ কোটি টাকা দিয়েছেন অক্ষয় কুমার। দিয়েছেন অন্যান্য অভিনেতারাও। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান খেলোয়াড়রাও তাদের বেতনের এক মাসের অর্ধেক টাকা করোনা মোকাবেলায় সাধারণ মানুষকে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের সহযোগিতা করছেন। যার বড় উদাহরণ বাংলাদেশ ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র ‘অধিনায়কদের অধিনায়ক’ মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু এমন দিনে রীতিমত বেখবর শাকিব খান। মিডিয়াতে দু-একটি বিজ্ঞাপনে ছাড়া তাকে দেখাই যাচ্ছেনা। এমন পরিস্থিতিতে এমন তারকা নিয়ে ‘আমরা কি করিব’ বলে সর্বত্র প্রশ্ন উঠছে। যদিও তিনি বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

স্বাআলো/ডিএম