আইসোলেশনে মারা যাওয়া যুবককে গণকবরস্থানে দাফন করল পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর: জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হাঁচি-কাশি নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে মারা যাওয়া যুবকের মরদেহ পুলিশের সহায়তায় নড়িয়া উপজেলার চন্ডিপুর সরকারি গণকবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ সময় বাঁশ কাটা, কবর খোঁড়া, কবরে নামানোসহ সব কাজই করেছে নড়িয়া থানা পুলিশ। জানাজা পড়ান নড়িয়া থানা মসজিদের ইমাম। এ কাজের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেকেই পুলিশের প্রশংসা করছেন।

নড়িয়া থানা পুলিশ ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা ৩৪ বছর বয়সী ওই যুবকের মৃত্যু হয়। বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নীতিমালা অনুযায়ী স্থানীয় চার সদস্যের বিশেষ কমিটির সদস্যরা ওই যুবকের মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যান নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ মাদরাসা কবরস্থানে।

কবরস্থান কর্তৃপক্ষ সেখানে কবর না দেয়ার অনুরোধ করেন। এরপর নড়িয়া থানা পুলিশ ওই যুবকের বাবার পৈত্রিক এলাকা চন্ডিপুর সরকারি গণকবরস্থানে তাকে দাফন করে। এলাকার কোনো লোকজন এগিয়ে না আসায় মরদেহের দাফন সম্পন্ন করতে বাঁশ কাটা থেকে শুরু করে সকল কাজই করেন পুলিশ সদস্যরা।

জানাজায় নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান, এসআই ইমরান, এসআই মামুন, এসআই নাজমুল, এসআই হাফিজসহ ১৫ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ওই যুবকের দুই মামা, এলাকার এক যুবক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চার সদস্যের টিম পুলিশকে সহযোগিতা ও জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। তবে ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল কি-না তা পরীক্ষা করার জন্য নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা ওই যুবকের মরদেহ প্রথমে নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ মাদরাসা কবরস্থানে দাফন করার জন্য নিয়ে গেলে কবরস্থান কর্তৃপক্ষ সেখানে দাফন না করার জন্য অনুরোধ জানান। পরে আমরা একই উপজেলার চন্ডিপুর সরকারি গণকবরস্থানে মরদেহটি দাফন করি।

শরীয়তপুর সদর হাসাপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহমেদ খান বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ওই যুবক শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও হাঁচি-কাশি নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনা উপসর্গ সন্দেহ হওয়ায় তাকে আমরা আইসোলেশন ইউনিটে রাখি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় ওই যুবক মারা যান।

তিনি আরো বলেন, নিহত ওই যুবক গত ১৯ মার্চ জ্বর-কাশি নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে পরীক্ষায় তার যক্ষ্ম রোগ ধরা পড়ে। তিনি ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ২৩ মার্চ সদর হাসপাতাল থেকে ফিরে গিয়ে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের সিভিল সার্জনের বরাত দিয়ে জানান, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই যুবক প্রবাসী ছিলেন না। তবে কোনো প্রবাসীর সংর্স্পশে এসেছিলেন কি-না তা খোঁজ নেয়া হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তার বাড়িসহ আশপাশের ৫টি বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও তার সংস্পর্শে আসা ২৩ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ওই যুবকের নমুনা পরীক্ষার ফল আইইডিসিআর থেকে পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাআলো/এসএ