চৌগাছায় দুই হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা দিলেন এক শিল্পপতি

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় দুই হাজারের অধিক পরিবারে খাদ্য ও ৪০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছেন এক শিল্পপতি। উপজেলা প্রশাসনের দেয়া তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিচ্ছেন তার প্রতিনিধিরা। এর আগে তিনি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ৪০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেন।

শুক্রবারও চৌগাছা পৌরসভার কুঠিপাড়ায় এই শিল্প গ্রুপের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরপরই উপজেলার ১১ বিভিন্ন স্থানে জীবানুনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ৪০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছেন। নিজের প্রচারাণা না করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তার প্রতিষ্ঠান এই মাস্ক হস্তান্তর করে। জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় এই মাস্ক ইতিমধ্যে বিতরণ করেছেন।

সর্বশেষ ঘরবন্দি ও কর্মহীন মানুষের জন্য নেমেছেন খাদ্য বিতরণে। প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও চৌগাছা পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলেও পৌরশহরের কুঠিপাড়ায় খাদ্য বিতরণ করা হয়।

ডিভাইন গ্রুপের চৌগাছা শাখার ম্যানেজার হাদিউজ্জামান সাগর বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে উপজেলায় ৪০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছি। উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রশাসনের দেয়া তালিকা অনুযায়ী কয়েকদিন ধরে আমরা কর্মহীন হয়ে পড়া ২ হাজারের অধিক পরিবারে চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দিয়েছি। এখনো দিচ্ছি। প্রয়োজনে আরো খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হবে। আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, চৌগাছার কোন মানুষই না খেয়ে থাকবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে খাদ্য বিতরণ অব্যাহত রাখব।

চৌগাছার এই শিল্পপতি হাসানুজ্জামান রাহিন দানবীর হিসেবেই পরিচিত। চৌগাছায় ডিভাইন গার্মেন্টস ও চৌগাছা ফ্যাশন নামে তার দুটি গার্মেন্টস কারখানার পাশাপাশি দুটি কোল্ড স্টোরেজ, ডিভাইন এগ্রো, রাইস প্রসেসিং মিলসহ বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। যাতে চৌগাছাসহ পার্শবর্তী উপজেলাগুলোর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি তার পিতা-মাতার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল আযহায় ঈদ উপহার হিসেবে তালিকা করে উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার পরিবারে শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণ করে থাকেন।

এছাড়াও ডিভাইন এডুকেশন প্রকল্পের অধীনে উপজেলার ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভূক্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর ধরে বেতন দিয়েছেন। যে প্রতিষ্ঠানগুলি এখনো এমপিওভূক্ত হয়নি সেগুলোতে এবং উপজেলার ১২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অতিরিক্ত শিক্ষকের বেতন দিচ্ছেন প্রায় ছয় বছর ধরে।

স্বাআলো/ডিএম