চৌগাছায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীকে হত্যাচেষ্টা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় এক কলেজছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে মুসা ব্যাপারী (২৫) নামের এক গরু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই ছাত্রী চৌগাছা উপজেলা  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে চৌগাছার একটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ঘর-বাড়িও ঠিকমত নেই। রবিবার রাতে আমার মেয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির বাইরের কাঁচা বাথরুমে গেলে মুসা ব্যাপারী তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে। গামছা দিয়ে মুখ বেধে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। আমার মেয়ে বাধা দিলে এক পর্যায়ে তাকে একটি টাইগারের বোতলে থাকা কীটনাশক জোর করে মুখে ঢেলে দেয়। মেয়ের চিৎকারে আমরা দৌড়ে গেলে মুসা পালিয়ে যায়। এসময় একটু দুরে মুখে গামছা বাধা আরো দুজন দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করি।

মেয়েটির মা আরো বলেন, প্রতিবেশি মুসা ব্যাপারী দীর্ঘদিন ধরেই আমার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় একমাস আগে আমার মেয়ে প্রাকৃতিক কাজে সাড়া দিতে গেলে মুসা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তখন মেয়ের চিৎকারে আমরা এগিয়ে গেলে সে পালিয়ে যায়। সেসময় তার বড়ভাই আয়ূব
হোসেনসহ অন্যরা আমাদের হাতে-পায়ে ধরে ভবিষ্যতে আর এরকম কিছু হবে না বলে এবিষয়ে মামলা না করতে অনুরোধ করে।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, গভীর রাতে এরকম একটি মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে চিকিৎসা করার পর বর্তমানে কিছুটা সুস্থ আছে। মেয়েটির গায়ে বেশকিছু আচড়ের দাগ রয়েছে।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে রাতেই অভিযুক্তকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

সোমবার বেলা সাড়ে দশটার দিকে চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান মেয়েটির চিকিৎসার খোঁজ নিতে চৌগাছা হাসপাতালে যান। এসময় হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি দোষীকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুসার বড় ভাই আয়ূব হোসেন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তখন আমি মাফ চেয়ে ঘটনার মীমাংসা করি। কিন্তু ও বেয়াদব হয়ে গেছে। আমাদের কথা শোনে না। কি করব বলুন? আমরাও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্বাআলো/ডিএম/কে