করোনার দুর্যোগকে কাজে লাগিয়ে বেনাপোলে চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর: করোনাভাইরাসের দুযোর্গকে কাজে লাগিয়ে বেনাপোলে একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজের কাছে বেনাপোলের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। আতঙ্ক বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। তাদের দাবিকৃত চাাঁদা না দিলেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে। চাঁদা না দেয়ায় গত শনিবার এক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীকে মারপিট করেছে এই চাঁদাবাজরা।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। একই সাথে এই কাজে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে। এজন্য এলাকার ব্যবসায়ীরা যার যার অবস্থান থেকে গরীব, দুস্থ: অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেনাপোল একটি পক্ষ চাঁদাবাজীতে নেমেছে।

চাঁদাবাজ চক্রটি খাদ্য সামগ্রী বিতরণের নামে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ।

গত ৪ এপ্রিল বিকালে চাঁদার টাকা না দেয়ায়, রাসেলের নেতৃত্বে চাঁদাবাজরা স্থানীয় নামাজগ্রামের বাসিন্দা সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাবলুর ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বাবলুকে মামলা না নিয়ে চাঁদাবাজদের ডেকে মীমাংসা করে দেন।

যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান বাবলু বলেন, রাসেল ও রুবেলের নেতৃত্বে চাঁদাবাজরা গত ঈদের আগেও আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলো। এখন করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার নামে চাঁদাবাজী করছে। আমি দিতে রাজি না হওয়ায় আমার উপর হামলা করা হয়। বিষয়টি আমি পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ক্ষমা করে দিতে বলা হয়েছে।

এসব সন্ত্রাসীরা এর আগে ছোটআঁচড়া গ্রামের জাকির হোসেনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধরে নিয়ে গোডাউনের মধ্যে আটকে রড দিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়। ২০ মার্চ বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি অভিযোগ করা হলে পুলিশ একইভাবে রাতে উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়।

এ ছাড়াও গত ৬ এপ্রিল পুলিশ চাঁদাবাজির অভিযোগে একছাত্র নেতাকে আটক করেলও তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান জানান, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/ডিএম