করোনায় ঘরবন্দি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করণীয়

গত ১ এপ্রিল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। যথারীতি আমাদের প্রিয় পরীক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ প্রস্ততি নিয়ে অপেক্ষায় ছিল এই দিনটির। অভিভাবকদের জন্যও দিনটি ছিল প্রায় একই অনুভূতির। কিন্ত ‘করোনা’ নামক এক দানবের ভয়াল থাবায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল! পরীক্ষার পরিবর্তে পরীক্ষার্থীদের এখন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে সেই দানবের বিরুদ্ধে। চলা-ফেরা, খাওয়া-দাওয়া, মেলা-মেশাসহ সবকিছুর মাঝেই আনতে হয়েছে এক বিরাট পরিবর্তন। কোমলমতি ছেলে-মেয়েরা এখন বন্দি। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকে ওরা এক অজানা ভয়ে ভীত।

তবে, পরীক্ষা তো দিতেই হবে। কিছু সময়ের হের-ফের মাত্র। নিশ্চয়ই মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের জীবন থেকে একসময় এই কালোমেঘ সরিয়ে নিবেন। জীবন আকাশে আবার সূর্যের আলো ঝলমল করে উঠবে। সুতরাং, হাজারো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরীক্ষার কথা মনে রাখতে হবে।

সেক্ষেত্রে আমার পরামর্শ নিম্নরুপ-

১। গত ২ থেকে ৩ মাস পূর্বে যেভাবে পরীক্ষার প্রস্ততি নেয়া হচ্ছিল, সেভাবেই পড়াশুনার গতি চালিয়ে নিতে হবে। অভিভাবকদের সতক থাকতে হবে পরীক্ষা পিছানোর বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের মনে যেন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে।

২। পরীক্ষা পিছিয়েছে বলে প্রস্ততিতে যেন ছন্দপতন না হয়। বরং, এটা একটা বাড়তি সুযোগ বলে মনে করতে হবে।

৩। উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের ওপর তোমার জীবনের আগামী দিনের গন্তব্য তৈরি হবে, হবে তোমার নতুন পরিচয়। বিষয়টি মাথা থেকে সরানো যাবে না।

৪। যদি কোন কারণে তোমার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হয়ে থাকে, তাহলে তো এটাকেই ধরতে হবে উপরে ওঠার মূল সিড়ি। সুতরাং, সেক্ষেত্রে পড়াশুনায় অবহেলা করার নূন্যতম কোন সুযোগ তোমার নেই।

৫। মনে আসতে পারে যে, সব পড়া তো হয়েই আছে, আর কী এতো পড়তে হবে? এই ভুলটি কোনভাবেই করা যাবে না। ‘ভালোর কোন শেষ নেই,’ কথাটি মনে রাখতে হবে।

৬। অন্যসব চিন্তাকে পিছনে ফেলে আগের মতো শুধু পড়ার টেবিলকেই তোমার ‘আসলবন্ধু’ মনে করতে হবে।

৭। করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য স্বাস্হ্যবিভাগ, শিক্ষাবিভাগ, গুরুজন ও মা-বাবার নির্দেশ মেনে চলতে হবে।

৮। উপরের সবক’টি বিষয়ের ওপর সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দকে নিয়মিত কড়া নজর রাখতে হবে।

সুপ্রিয় বন্ধুগণ- আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে আসন্ন এই পরীক্ষার সাথে সম্পর্কিত। কারো সন্তান, কারো ভাই-বোন, কারো অন্য কোন আত্মীয় স্বজন এই পরীক্ষায় অংশ নিবে। ওরা প্রত্যেকেই আমাদের আপনজন। আমি আপনি একদিন এ পৃথিবীতে থাকবো না। কোন দায়িত্বও পালন করবো না। ওদেরকে যদি সত্যিকার অর্থে যোগ্য জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই একদিন ওরা গড়ে তুলবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।

তাই আসুন, ওদের পরীক্ষার ফলাফল ভালো করার ক্ষেত্রে অভিভাবক বা শুভাকাংখী হিসেবে আমাদের দায়িত্বটুকু আমরা যথাযথভাবে পালন করি।

লেখক: এম কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সদর, যশোর।