‘মানবতার বাজারে’ মিলবে টাকা ছাড়াই পণ্য

বরিশাল ব্যুরো: প্যাকেটে প্যাকেটে নির্দিষ্ট পরিমাণে চাল,  ডাল,  আলু,  পেঁয়াজ,  তেল,  ডিম, টমাটোসহ নানা পণ্য রয়েছে। অন্য সব বাজারের মতো নয়, খোলা আকাশের নিচে পণ্যগুলো রয়েছে। অন্য বাজারের চেয়ে পার্থক্য একটাই। এ বাজার থেকে পণ্য নিতে টাকা লাগবে না। কারণ এটা ‘মানবতার বাজার’। করোনা সংকটের সময় প্রতিদিন অন্তত ২০০ পরিবার এখান থেকে পণ্য নিতে পারবে। প্রতিদিনই বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই বাজার খোলা থাকবে

বরিশালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর উদ্যোগে রবিবার  ‘মানবতার বাজার’ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নগরীর ফকিরবাড়ি বাসদ কার্যালয় সংলগ্ন মাতৃছায়া স্কুল মাঠে এই ‘মানবতার বাজার’ বসেছে।

বাসদ বরিশাল জেলার আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন বলেন,  একটা পরিবারে যা কিছু প্রয়োজন তার বেশিরভাগ পণ্যই আমরা এই বাজারে রেখেছি।

গতকাল রবিবার চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, ডিম, টমাটো, মিষ্টি কুমড়া, ঢ়েড়শ, পুঁইশাক, শিশুদের জন্য চকলেট, আচার, চানাচুর, মাস্ক, জরুরি ওষুধ ইত্যাদি দেয়া হয়েছে। প্রতিদিনই আমরা আরো নতুন নতুন পণ্যই আমাদের এই মানবতার বাজারে যুক্ত করবো।

তিনি আরো বলেন, আর্থিক সামর্থ্য এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যা বিচার করে প্রতি পরিবারকে একটি রেশন বই দেয়া হয়েছে। যেখানে আমরা ৪০০/৫০০ পয়েন্ট প্রদান করি। যা দিয়ে ওই পরিবার বিনামূল্যে প্রায় ৬/৭শ টাকার বাজার করতে পারে। আমরা চেষ্টা করবো প্রতি সপ্তাহেই প্রতি বইয়ে নতুনভাবে পয়েন্ট যুক্ত করার। আমরা এই সংকটের সময় প্রতিদিনই অন্তত ২০০ পরিবারকে এই সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন,  এই দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সারাদেশেই বাসদের পক্ষ থেকে এ ধরনের নানান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বরিশালে এ পর্যন্ত আমরা ৫ সহস্রাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছি যা এখনও অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, এক মুঠো চাল কর্মসূচির আওতায় এই ‘মানবতার বাজার’ থেকে অন্তত ৩ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। এর বাইরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ‘এক মুঠো চাল’ এর খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে প্রতিদিন গড়ে ১৫/২০টি পরিবারকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচিগুলো সফল করতে যারা আর্থিক, নৈতিক, স্বেচ্ছাশ্রম এবং পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন প্রত্যেকের দায়িত্বশীলতার প্রতি আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

স্বাআলো/এসএ