‘আমি ভুল করেছি, এখন চিকিৎসা নিতে চাই’ বললেন করোনা রোগী

জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর গ্রামের পলাতক করোনা রোগী বাড়ি ফিরে এসেছেন।

শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে বাড়ি এসে  ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে মোবাইল ফোনে তিনি জানান, আমি বাড়ি এসেছি। গতকাল পালিয়ে গিয়ে আমি ভুল করেছি। আমি এখন চিকিৎসা নিতে চাই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পলাতকসহ জিন্দারপুর গ্রামের আরো একজনের নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। জয়পুরহাট জেলায় এই দুই জনই প্রথম করোনা রোগী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য গোপীনাথপুর আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন পুলিশ নিয়ে তাদের গ্রামে যায়। খবর পেয়ে বাড়ি থেকে একজন পালিয়ে যান। খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পুলিশ অন্যজনকে আইসোলেশনে নিয়ে যায়।

করোনা রোগী পালিয়ে যাওয়ার এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। ফেসবুকে পলাতক ব্যক্তির ছবিও ভাইরাল হয়ে যায়। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য রাতেই গোটা এলাকায় মাইকিং করা হয়। পুলিশসহ  ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সচেতন লোকজন  হয়ে সারারাত তাকে খুঁজতে থাকেন। এ অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে তিনি নিজেই বাড়ি ফিরে চেয়ারম্যান ও গ্রামের ইউপি সদস্যকে তার অবস্থানের কথা জানান। তাকে পাওয়ার খবর জানাজানি হলে স্বস্তি ফিরে এলাকায়।

জিন্দারপুর ইউপি সদস্য আজাহার আলী বলেন, ভোর ৫টার দিকে পলাতক ওই ব্যক্তি তাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছে, আমি বাড়ি আছি,পালিয়ে গিয়ে আমি ভুল করেছি, আমি চিকিৎসা নিতে চাই, আমাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করো।

ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, গতকাল ওই করোনা রোগী পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে চরম উৎকণ্ঠায় কেটেছে সারারাত। ঘুম হয়নি, ভোরে সে নিজে থেকেই ফোন দিয়ে বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছে। আজ তাকে গোপীনাথপুরে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হবে।

কালাই থানার ওসি আব্দুল লতিফ খান জানান, পলাতক ওই করোনা রোগী সারারাত আত্মগোপনে থাকার পর ভোরে নিজে থেকেই ধরা দেয়। তাকে নিয়ে আমরা খুব টেনশনে ছিলাম।

স্বাআলো/এসএ/কে