বেতনের দাবিতে সাকিবের ফার্মে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যা বললেন তার বাবা

ডেস্ক রিপোর্ট: সাকিব আল হাসান সাতক্ষীরায় কাঁকড়া খামার শুরু করেন ২০১৬ সালে, তবে বিষয়টি তার বাবা মাসরুর রেজা ২০১৯ সালে জানতে পারেন বলে জানিয়েছেন। ওই খামারের শ্রমিকদের চার মাসের বেতন বকেয়া সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না বলে জানান তিনি। বর্তমানে সাকিব আমেরিকায় অবস্থান করছেন।

আরো পড়ুন>>>  হাওরের অঞ্চলের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার নির্দেশ

সোমবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনীতে চার মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন করে সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডে প্রায় দুই শত শ্রমিক। পরে র‌্যাবের একটি টহল টিম আন্দোলনরত শ্রমিকদের হটিয়ে দেয়। একাধিকবার আশ্বাস দিয়েও বেতন না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা বিক্ষোভ করছেন বলে জানায় শ্রমিকরা।

বকেয়া বেতনের বিষয়ে সাকিবের বাবা মাসরুর রেজা বলেন, সাকিবের কাঁকড়া খামারের শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করার বিষয়টি ঢাকা থেকে একজন ফোন করে জানিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর সাকিবে কাঁকড়া ফার্ম প্রজেক্টের তত্ত্বাবধায়ক ও পার্টনার সগীর হোসেন পাভেলকে কয়েকবার ফোন করেছি, কিন্তু তার ফোন বন্ধ পেয়েছি। যতটুকু জানি এটিতে সাকিবসহ বেশ কয়েকজনের শেয়ার আছে। কিন্তু কতজন আছে সেটা জানা নেই। সাকিবের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে কোনও প্রকার আগ্রহ আমার নেই। সাতক্ষীরায় সাকিবের কাঁকড়া খামারে একদিন গিয়েছিলাম। বিষয়টি সাকিবের বন্ধু পাভেল দেখভাল করে। আমি মাগুরায় থাকি ব্যাংকে চাকরি করি। সেটা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়।

তিনি বলেন, সাকিব বর্তমানে আমেরিকাতে আছে। বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের বিষয়টি জানে কিনা সেটাও জানি না, সাকিবকে জানানো হয়নি।

তিনি আরো বলেন, সাকিবের কাঁকড়া খামার সম্পর্কে আমার কিছু জানা ছিল না। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সাকিব বলে চলেন সাতক্ষীরা থেকে ঘুরে আসি। সেদিন থেকে জানতে পারি সাতক্ষীরায় সাকিবের কাঁকড়া খামার আছে। আমি ব্যাংকে চাকরি করি। অনেক চাপে থাকতে হয়। সাকিবের কোথায় কী ব্যবসা আছে সেটি জানিও না। জানতে চাইও না। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে আমার মন নেই।

সাকিবের খামারের বিষয়ে তিনি বলেন, পাভেলের বাবা আমার সঙ্গে চাকরি করতো। সেই থেকে সাকিব আর পাভেলের পরিচয়। পাভেল পরে সাকিবের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতো সেই থেকে তাদের দুই জনের বন্ধুত্ব। পরে তারা সাতক্ষীরায় কাঁকড়া খামার গড়ে তোলে।

বেতন বকেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনা শুরু হওয়ার প্রথম দিকে পাভেলের কাছে ফোন দিয়ে ব্যবসার বিষয়টি জানতে চেয়েছিলাম। তখন সে বলছিল করোনার কারণে বিদেশে কাঁকড়া পাঠাতে পারছে না। আবার যাদের কাছে বিক্রি করেছি তাদের কাছে ৮০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সাকিব পাওনাদারদের কাছে ফোন দিলেও তারা ফোন ধরে না। তারপরও শ্রমিকদের বেতন দিয়েছি। কিছু বেতন বাকি আছে সেগুলো দ্রুত পরিশোধ করে আপাতত ব্যবসা বন্ধ রাখবো। এরপর আর কিছু আমাকে বলেনি।

প্রতিষ্ঠানের হ্যাচারির শ্রমিক মহিদুল ইসলাম জানান, করোনার কারণে কোথাও কোন কাজ নেই। বাড়িতে খাবার নেই। খুব কষ্টে দিন কাটছে। গত চার মাস ধরে বেতনও দেওয়া হয়নি।

আরেক নারী শ্রমিক মনোয়ারা জানান, গত চার মাসের বেতন বন্ধ। তাই রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।

বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল বলেন, সাকিব আল হাসানের কাঁকড়া ফার্মের সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর শুনে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামকে বিষয়টি সমাধান করার জন্য পাঠিয়েছিলাম। সাকিব আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তার যেনো বদনাম না হয় সেই জন্য বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে বলি।

বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম জানান, ফার্মের তত্ত্বাবধায়ক সগীর হোসেন পাভেলের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি জানিয়েছেন শ্রমিকদের আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বেতন পরিশোধ করা হবে।

এই দিকে সগীর হোসেন পাভেলের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্বাআলো/এসএ