শিকলে বেধে শিশুকে নির্যাতন

 

জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর : সৎমা ও সৎ ভাইরা মিলে শিকলে বেঁধে ১০ বছরের শিশু অঞ্জনাকে নির্যাতন করছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বয়ড়া একুশের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটছে।

এলাকাবাসী জানায়, বয়ড়ার রফিকুল ইসলাম দুটি বিয়ে করে। কয়েক বছর আগে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে তার বাবার কাছেই থাকে। গত ২২এপ্রিল  বিকেলে রফিকুলের প্রথম স্ত্রী বকুল শিশু অঞ্জনাকে রান্নার লাকড়ি কুড়িয়ে আনতে বলে। এ নিয়ে মা ও মেয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে  বকুল বেগম ও সৎ ভাই রতন, মনি ও বিপুল তাকে  শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর শুরু করে।

শিশুটি গত ২৩এপ্রিল শিকলসহ পালিয়ে ডিক্রির বন্দ তার ফুপু সেলিনা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে ওই বাড়ির লোকজন তার হাত-পায়ের শিকল হ্যাক্সোব্লেড দিয়ে কেটে দেয়। সৎ মার নির্যাতন সইতে না পেরে ওই শিশুটি এতটা পথ পায়ে হেঁটে চলে যায়।

নির্যাতিতা শিশুটি বলে, আমার সৎমা রেগে গলা চেপে ধরে। আমি কান্নাকাটি করলে লোহার শিকল দিয়ে দুটি তালা দিয়ে আমার হাত ও পা বাঁধে। তারপর সৎমা ও ভাই মিলে মারধর করে। সারারাত কিছু খেতে দেয়নি। শিশুটি আরো জানায়, কান্নাকাটি করলে তারা আমাকে ছালার মধ্যে ভরে পানিতে ফেলে মেরে ফেলার ভয় দেখায়।

অঞ্জনার ফুফা আব্দুল বারিক জানান, শিশুটি আসার পর তাকে শিকল থেকে মুক্ত করে খাবার দেয়া হয়। বর্তমানে সে আমার আশ্রয়ে রয়েছে। শিশুর বাবার সাথে কথা বলতে চাইলে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত মা বকুল বেগম নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটি পাগল ও দুশ্চরিত্রা, তাই তাকে একটু গালাগাল করা হয়েছিল।

সরিষাবাড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক এলাকার ব্যাক্তিদের সামনে শিশুর মা ভাইদের মুচলেকা লিখে নিয়েছি। তারা মারধর করবে না মর্মে। এছাড়া ৫ হাজার টাকা দিয়েছি সমাজ সেবা ফান্ড থেকে ভরণ পোষণের জন্য।পরিস্থিতি শান্ত হলে তাকে সরকারি শিশু সদনে ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।

স্বাআলো/কে