জুতা সেলাই করে জমানো টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিলেন রবিদাস

রংপুর ব্যুরো: করোনাকালে খাবার সংকটসহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষরা। অসহায় দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের আহাজারি দেখে মনকষ্টে ভুগছিলেন রংপুরের দলিত সম্প্রদায়ের মিলন রবিদাস। তিনি জাতীয় এই দুর্যোগে অসহায় মানুষদের জন্য জুতা রং ও সেলাই করে জমানো ২০ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিয়েছেন।

সোমবার দুুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন ভূঁইয়ার হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি।

এদিকে বিস্ময় প্রকাশ করে ইউএনও মামুন ভূঁইয়া বলেন, আমার কাছে এটা অবাক করার মতো ঘটনা। একজন মুচি সারাদিন জুতা রং করে, সেলাই করে। সেই ঘাম ঝড়ানো টাকা করোনার সময় অসহায় মানুষদের জন্য সরকারি তহবিলে দেয়াটা নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর আব্দুল্লাহপুর গ্রামে মিলন রবিদাস বাড়ি। পেশায় মুচির কাজ করেন। নিজের থাকার মতো কোনো বসত ভিটে নেই। চাচার জমিতে মা, স্ত্রী আর দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার অভাব অনটনে ভরা সংসার চলে জুতা সেলাই করা সামান্য উপার্জনে। মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ গেটের পাশে ছোট্ট একটা দোকান নিয়ে সেখানে প্রতিদিন জুতা রং আর সেলাই করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলছে ছেলে মেয়ের পড়ালেখা সাথে সংসার দেখাশুনা। কয়েক বছর আগে বৃদ্ধ মা-আর স্ত্রীর চাপে অনেক কষ্টে দুই শতক জমি কিনেছেন রবিদাস। কিন্তু অর্থাভাবে সেই জমিতে এখনো বাড়িঘর বানাতে পারেন নি।

এ বিষয়ে মিলন রবিদাস বলেন, আমি পড়ালেখা করতে পারি নাই। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে গিয়েছি। বাবা মারা গেছে ২০ বছর আগে। এরপর থেকে বাপদাদার মুচি পেশাকে বেঁচে নিয়েছি। সংসার চালানো যে কত কষ্টের তা প্রতিনিয়ত অনুভব করছি। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার ও সমাজের অনেক বিত্তবানরা ত্রাণ সহায়তা দিয়ে দুর্যোগে লড়াই করছে। তাই আমিও ঘর বানানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমানো টাকা সরকারের তহবিলে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই যদি মানুষের জন্য চিন্তা করে, তাহলে এই দুর্যোগ কেটে যাবে। ত্রাণের জন্য মানুষ কাঁদবে না। খাবারের জন্য রাস্তাঘাটে ঘুরবে না।

স্বাআলো/এসএ