কর্মী করোনায় আক্রান্ত, চৌগাছার ডিভাইন গার্মেন্টসে শ্রমিক বিক্ষোভ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছার ডিভাইন গার্মেন্টসে শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। কর্মীদের দাবি গার্মেন্টসে কাজ করতে হলে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় তারা কাজ করবেন না। তবে এই মহামারীর সময়ে কাজ না করার কারণে তারা যেন চাকরিচ্যুত না হন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলামের অনুরোধে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গার্মেন্টসটির মালিকের সাথে কথা বলে
ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা শান্ত হয়।

মঙ্গলবার গার্মেন্টসটির একজন নারী শ্রমিক করোনা পজেটিভ হওয়ার রিপোর্ট আসার পর ডিভাইন গ্রুপের চৌগাছা ফ্যাশনের কর্মীরা ১ম শিফটে কাজ শেষে শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

সূত্র জানায় উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নে ডিভাইন গ্রুপের ডিভাইন গার্মেন্টস ও চৌগাছা ফ্যাশন নামে দুটি ফ্যাক্টরী রয়েছে। দুটি ফ্যাক্টরীতে চৌগাছাসহ আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার প্রায় ২ হাজার কর্মী কাজ করেন। সরকারি সাধারণ ছুটির পর দেশের অন্যান্য স্থানের মত চৌগাছার ফ্যাক্টরী দুটিও চালু করে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। অথচ করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় ২৩ এপ্রিল থেকে গোটা চৌগাছা উপজেলা লকডাউনে রয়েছে।

সূত্রমতে রবিবার গার্মেন্টস দুটি খুলে দেয়ার পর প্রথমদিনেই কর্মীদের প্রবেশ পথে সবার স্কানিং করানো হয়। এসময় চৌগাছা ফ্যাশনের একজন নারী ও একজন পুরুষ কর্মীর শরীরে তাপ থাকায় এবং ওই নারী কর্মীর কাশি থাকায় তদের গার্মেন্টসে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পরে ওইদিনই ওই নারী কর্মী চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসকরা তার নমুনা নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে পাঠান। সেখানে সোমবার পরীক্ষায় ওই নারী কর্মীর করোনা পজেটিভ হয়। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওই নারীর করোনা পজেটিভের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সাথে গার্মেন্টস লকডাউন করতে হবে বলে মতামত দেন।

রিপোর্ট আসার আগেই সকালে গার্মেন্টস কর্মীরা ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করায় ১ম শিফটে কাজ শেষে দুপুরে বাইরে বেরিয়ে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তারা কাজ করতে হলে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে কাজ করবে না বলে চৌগাছা ফ্যাশনের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরীকে বিষয়টি দেখতে অনুরোধ করেন। এরপর তিনি গিয়ে কর্মীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। তখন গার্মেন্টস কর্মীরা বলেন আমরা কাজ করতে হলে আমাদের পূর্ণ নিরাপত্তার
ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আমরা কাজ করবো না। তবে এই মহামারীর সময়ে এই কাজ না করার জন্য আমাদের চাকরিচ্যুত করতে পারবেন না। মাসুদ চৌধুরী তাদের আশ্বস্ত করেন গার্মেন্টস মালিক হাসানুজ্জামান রাহিনের সাথে কথা বলে তাদের ব্যবস্থা করেন।

এ সময় চৌগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক অমেদুল ইসলাম, ডিভাইনের চৌগাছা অঞ্চলের ম্যানেজার হাদিউজ্জামান সাগর, গার্মেন্টস সেকশনের ম্যানেজার তারেক মোশারফ, সহকারী ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম প্রমুখ
উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী বলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুরোধে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে এসেছি। তবে মালিক হাসানুজ্জামান রাহিনের মোবাইল নম্বর না থাকায় তার সাথে কথা বলতে পারিনি। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। তিনি পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।

ডিভাইনের চৌগাছা অঞ্চল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান সাগর বলেন গত রবিবার আমাদের গার্মেন্টস খোলা হয়। এসময় ওই নারী কর্মীর কাশি ও হালকা জ্বর থাকায় তাকে ফ্যাক্টরীতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমাদের ডাক্তার তাকে চিকিৎসা নিতে নির্দেশ দেন।

এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার নমুনা পাঠানো হলে তার নমুনা পজেটিভ আসে। পজেটিভ আসার পর তার সংস্পর্শে যারা এসেছিল এমন কর্মীদের ছুটি দেয়া হয়েছে। তবুও কিছু শ্রমিক বিশৃঙ্খলা করছিল।

এবিষয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষকে বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তারা যদি এরপরও গার্মেন্টস চালান তাহলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকের সাথে পরামর্শ করে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/এসএ