লকডাউনের মধ্যে জালিয়াতি, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য উধাও

চট্টগ্রাম ব্যুরো: নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ে সৃষ্ট লকডাউন পরিস্থিতিতে জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ২৬ মেট্রিক টন কাপড় খালাস করে নিয়ে যাওয়ার একটি ঘটনা উদঘাটন হয়েছে। পুলিশ ও বন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা মিলে কিছু পণ্য উদ্ধার করেছে। জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকার সবুজবাগ থানার দক্ষিণ বাড্ডা এলাকার কিমস ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা এবং চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ লাকী প্লাজার আর এম অ্যাসোসিয়েটস নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে তারা ধারণা করছেন। যে কাপড়গুলো জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দর থেকে বের করা হয়েছে, সেগুলো একবছর ধরে খালাস না করে ফেলে রাখায় কাস্টমসের নজরদারিতে ছিল বলেও তারা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চীন থেকে এমসিসি ডেনাং নামে একটি জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে ২৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ফেব্রিকস। কিমস ফ্যাশন লিমিটেড এই ফেব্রিকস আমদানি করে। কিন্তু এই চালান খালাসের জন্য আমদানিকারক কাস্টমসে কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। সেগুলো খালাস না করায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক হিসেবে কনটেইনারটি নজরদারিতে রাখে।

গত ১৯ এপ্রিল সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আর এম অ্যাসোসিয়েটস তাদের নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা আর্ট কার্ড খালাসের জন্য কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। ওইদিনই বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে নিয়ে যায় আর এম অ্যাসোসিয়েটস।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআরআই শাখার সহকারী কমিশনার নুর এ হাসনা সানজিদা অনসূয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরেছি, আর এম অ্যাসোসিয়েটস আর্ট কার্ড খালাসের জন্য ছয়টি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করেছিল। অথচ তাদের পণ্যের জন্য প্রয়োজন ছিল চারটি গাড়ি। অতিরিক্ত ‍দু’টি কাভার্ড ভ্যানে করে তারা ২৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ফেব্রিকস নিয়ে গেছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। এ তথ্য পেয়ে আমরা আজ রবিবার ওই কনটেইনারটি কায়িক পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখি, সেটি খোলা এবং সেখানে কোনো ফেব্রিকস নেই।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, কাস্টমসে শুল্ক পরিশোধের নথি দাখিল ছাড়া বন্দরের কয়েক দফা নিরাপত্তার স্তর পার হওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া আমদানিকারকের যোগসাজশ ছাড়া পণ্যগুলো খালাস করে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, এক সপ্তাহ আগেই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং জাল নথি দাখিল করে দু’টি কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে পণ্যগুলো বন্দর থেকে বের করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিষয়টি বন্দর থানায় অবহিত করি। আজ রবিবার ঘটনা তদন্তে বন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বন্দর থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আমরা কুমিল্লার চান্দিনা থেকে এক কাভার্ড ভ্যান পণ্য উদ্ধার করে এনেছি। আরেকটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধারের পর আমরা সব পণ্য বন্দরকে দেব। তারা যদি মামলা করে, তাহলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।

স্বাআলো/এসএ