রংপুর সিটি করপোরেশন ঘেরাও করে ত্রাণ দাবি

রংপুর ব্যুরো :  রংপুরে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও সিটি করপোরেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন রিকশা-ভ্যান,ঠেলা ও অটো, বিদ্যুৎ শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের শত শত মানুষ। এসময় বিক্ষুদ্ধরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নগরীর গুরুত্ব সড়কের দু’পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত রংপুর সিটি করপোরেশনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল চলে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রিকশা, ভ্যান, ঠেলা ও অটোবাইক, বিদ্যুৎ শ্রমিকসহ শত শত দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ অংশ নেন।
নগরীর সিটি বাজারের কাছ থেকে টাউন হল চত্বর সড়ক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে যানবাহন চলাচল ব্যহত হওয়াতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহামারি করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা বেকার হয়ে পড়ে আছেন। সরকারি, বেসরকারিভাবে তেমন ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না। এতে হাত গুটিয়ে বসে থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন।
দিনমজুর ও শ্রমিকরা জানান, পাঁচ কেজি চাল আর সামান্য তেল ডাল দিয়ে এক মাস সংসার চালানো অসম্ভব। ঘরে রাখতে হলে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা দিতে হবে। অন্যথায় উপার্জনের বাহন নিয়ে সড়কে নামার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
এ সময় অনেকেই অভিযোগ করেন,  ত্রাণ দেবার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ডের ফটোকপি নেয়া হলেও ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছেনি। খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিতে না পারলে লকডাউন তুলে নেয়ার দাবি জানান তারা।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা সিটি করপোরেশনের ভিতরের প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন মিঞা, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলসহ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা সেখানে উপস্থিত হন। তাদের দাবি-দাওয়া শোনার পরে মেয়রের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। পরে স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়।

স্বাআলো/কে