হত্যার ভয় দেখিয়ে নিজের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় নিজেরয়া শিশু কন্যাকে দা’ দিয়ে গলা কেটে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম নামে এক পিতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ১২ মে ওই শিশু নিজেই বাদি হয়ে পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দিয়েছে চৌগাছা থানায়। চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রায় দুই মাস আগে ওই পাষন্ড পিতা এমন ন্যাক্কারজন ঘটনা ঘটালেও ১২ মে ওই শিশু চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। নির্যাতিত শরিফুল ইসলামের বাড়ি চৌগাছার পাতিবিলায়। গ্রামেরই সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মেয়েটি। ওই পিতা তার ২য় স্ত্রীর পরামর্শে মেয়ের সর্বনাশ করেছে বলে অভিযোগ করছেন শিশুটির মা।

ছাত্রীটির জানায় ২ মাস আগে আমাকে নতুন জামা কাপড় কিনে দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে চৌগাছা বাজারে নিয়ে যায়। বাজার থেকে ফিরতে তাদের দেরি হয়ে যায়। কিন্তু পিতা তাকে বাড়ি না নিয়ে গিয়ে দেবিপুর বাজারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চাকলা গ্রামের একটি বাগানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। আবারো তাকে বুঝিয়ে দেবিপুরের পাশেই একটি বড় বাগানে নেয়ার চেষ্টা করে। সেখান থেকেও পালাতে দৌড় দেয় শিশুটি। আবারো পিতা তাকে ধরে নিয়ে একটি বালির গর্তে নিয়ে গিয়ে বাবার হাতে থাকা একটি দা’দিয়ে গলা কেটে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। তার মাকে বললে দুজনকেই হত্যার হুমকি দেয়। মেয়েটি আরো বলে এরপর একদিন তার মাকে বেদম মারধর করে তার পিতা। তখন তার মা তাকে রেখে নানার বাড়ি চলে  যায়।

সেদিন সে মায়ের কাছে এই ধর্ষণের কথা বলে দেয়। এরপর একে একে জেনে যায় শিশুটির দাদা-দাদি, মা, অন্য চাচা ও চাচিরাও। এক পর্যায়ে গ্রামের মানুষও বিষয়টি জেনে যায়। এরপর কোন প্রতিকার না হওয়ায় শিশুটির মা শবে বরাতের পরের
দিন মেয়েকে নিয়ে-নিজের বাপের বাড়ি উপজেলার সুখপুকুরিয়ায় ফিরে যায়। বর্তমানে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। মেয়েটির বড় চাচি, আরেক ছোট চাচাও ঘটনাটি সত্যতা নিশ্চিত করেন। মেয়েটির ওই চাচা বলেন, বিষয়টি তার বড় ভাই শরিফুলের কাছে জানতে চেয়েছেন। কিন্তু সে অস্বীকার করেছে। তিনি আরো বলেন তার ভাই এখন বাড়িতে নেই। ভাবি ও
ভাতিজি বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তার ভাইও বাড়ি ছেড়ে কোথায় চলে গেছেন। তিনি বলেন এমন ঘটনা গ্রামে প্রকাশ হয়ে পড়ার পর আমাদের মুখ দেখানোর মত নেই।

শিশুটির দাদা (৭২) ও দাদীর (৬৫) বলেন, ঘটনা কিছু না হলে এতোদিন পরে এসব কথা হবে কেনো? কেনই বা বৌমা তার মেয়েকে নিয়ে চলে যাবে। আপনারা দাদা ও দাদী বলেন, আমরা ওই ছেলের সাথে কথা ও দেখা বন্ধ করে দিয়েছি।

নির্যাতিত শিশুটির মা বলেন ২০০১ সালে আমার বিয়ে হয়। আমার ওপর খুবই অত্যাচার করে। যখনই টাকা পয়সা কম হয়ে যায় আবার নির্যাতন করে। তিন বছর আগে আবার বিয়ে করেছে। আমাকে আগেও নির্যাতন করতো, নতুন বিয়ের পরে সেই নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে জিনিস ও নগদ টাকা দিয়ে আমার বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। এরপরও টাকা চেয়ে নির্যাতন করে। তবুও আমি কোথাও যায়নি। আমাকে তাড়ানোর জন্যই সে ২য় বউয়ের পরামর্শে এমন কাজ
করেছে। যেন আমি চলে যায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি চাই তার কঠিন শাস্তি হোক।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শরিফুলের কাছে কল দিলে সে ফোন রিসিভ করে বলে এটা রং নম্বর। ওই নামে কেউ নেই। এটা ফেনীর নম্বর। পরে বৃহস্পতিবার অনেকবার কল দেয়ার পর ফোন রিসিভ করে বলে, এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তবে  মেয়েকে নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫/১৬ তারিখে চৌগাছা বাজারে জামা কিনতে নিয়ে গিয়েছিলেন।

আসতে তাদের সন্ধ্যা হয়ে যায় বলে স্বীকার করেন। তার পরের আর কোনো কিছু স্বীকার করে ফোন কেটে দেয়। তবে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শরিফুল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা ও নানা।

এ বিষয়ে ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনা যেহেতু দু’মাস আগের তাই সঠিক তদন্ত না করে কিছু বলা যাবে না।

স্বাআলো/কে