বৃদ্ধ ও ছাত্রীর বিয়ের রেজিস্ট্রি করানো সেই কাজী গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা : কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল গ্রামের বৃদ্ধ ও ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি এখন দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত। অসম এ বিয়ের খবরে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। প্রথম অবস্থায় প্রশাসন নিরব থাকলেও বাল্য বিয়ের অভিযোগ এনে কিশোরীর মায়ের আবেদনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। গ্রেফতার করা হয়েছে ৬৫ বছর বয়সী সেই বরকে। প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নাম, সীল, কাবিন ব্যবহার করে বৃদ্ধ ও কিশোরী বিয়ে ও কাবিন সৃষ্টির অভিযোগে লাকসামের আজগরা ইউনিয়নের কাজী সারোয়ার মজুমদারকেও আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে তাকে কুমিল্লা কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। ওই কাজীর বাড়ি ওই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে।

পুলিশ ও কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পেরুল গ্রামের ইমান হোসেন ঢাকায় চাকুরি করার সুবাধে তার পরিবারের দেখাশুনা করতেন পেরুল দীঘিরপাড়ার রিক্সাচালক সামছুল হক। এরই প্রেক্ষিতে ইমান হোসেনের ১৩ বছর বয়সী দ্বিতীয় কন্যা ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে পেরুল উচ্চ বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া করতেন ওই বৃদ্ধ। এরই মাঝে নানা সামছুল হক ওই ছাত্রীর সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই তিনি ওই বাড়িতে রাত্রিযাপন করতেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা আপত্তি করলে তিনি প্রাপ্ত বয়স হলে কিশোরীর সাথে নিজের ছেলে মনিরের বিয়ে দেয়া হবে বলে এলাকায় প্রচার করেন।

গত ১০ মে রবিবার সামছুল হক কৌশলে ওই কিশোরী নাতনিকে নিয়ে উধাও হয়ে যান। এনিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ১১ মে সোমবার পেরুল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক ও ছাত্রীকে ইউপি কার্যালয়ে হাজির করে বিস্তারিত জানতে চান। ওই সময় সামছুল হক ছাত্রীর প্রাথমিক শিক্ষা সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ ও বিয়ের একটি কাবিননামা উপস্থাপন করেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সনদ ও জন্মনিবন্ধনে তার জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ০২/০২/২০০২ইং। কাবিননামায় দেখা যায়, গত ১০ মে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ড এর নিকাহ রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান সরকারের কার্যালয়ে ৫লাখ টাকা মোহরানায় বই নং ৫৪, পৃষ্ঠা নং ২৮ ও ক্রমিক নং ৪৪০-এ তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। এতে সামছুল হকের জন্মতারিখ ০৩/০১/১৯৫৫ইং উল্লেখ রয়েছে।

১৪ মে বিকালে ছাত্রীর মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে বৃদ্ধ নানা সামছুল হকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২/৩জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় লালমাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে লালমাই থানার এস আই মোশারফ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে উপজেলার পেরুল উত্তরের হরিশ্চর স্কুল সংলগ্ন হাবিব স্যারের ভাড়া বাসা থেকে সামছুল হককে আটক করেন। এ সময় পুলিশ তার হেফাজত থেকে ওই ছাত্রীকেও উদ্ধার করেন।

শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার আমলী আদালত নং ৯ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সামছুর রহমান এর আদালতে ছাত্রীর জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। একই আদালত বৃদ্ধ সামছুল হককে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে নিজের নাম ব্যবহার করার বিষয়টি জানতে পেরে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডের কাজী মুজিবুর রহমান উল্লেখিত কাবিননামা তার কার্যালয়ে রেজিস্ট্রি হয়নি মর্মে গত ১৪ মে কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শুক্রবার দুপুরে লালমাই থানা পুলিশ কোতয়ালী থানা পুলিশের সহায়তায় লাকসামের আজগরা ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার গোলাম সারোয়ার মজুমদারকে কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।

লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, বৃদ্ধ সামছুল হককে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত ভিকটিমের জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নাম, সীল, কাবিন ব্যবহার করে কাবিন সৃষ্টির অভিযোগে গোলাম সারোয়ার মজুমদার নামের একজনকে গ্রেফতার করেছি। তাকে নিয়ে অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্বাআলো/এসএ