রমজানের শেষ ১০ দিন রোজাদারদের করণীয়

ডেস্ক রিপোর্ট : রমজান মাসের শেষ দশ দিন নাজাত বা মুক্তির, । এই ১০ দিন আমাদের করণীয় হবে দুনিয়ার সবকিছুর আকর্ষণ ও মোহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর প্রেমে বিভোর হওয়া। বিশেষ করে সব ধরনের অন্যায় অপরাধ, পাপ ও গুনাহ, যা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়; যথা: অবৈধ সম্পদ, অন্যায় মতা লিপ্সা ও পাপাচার, এগুলো থেকে নিজের মন ও মানসকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা এবং সেসবের আকর্ষণ থেকে পরিপূর্ণরূপে মোহমুক্ত হওয়া। আল্লাহপাকের স্বয়ম্ভুতা, স্বনির্ভরতা, মুক্ততা ও নিরপেতা-সংক্রান্ত নামগুলোর জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করে এর ভাব-প্রভাব ও বৈশিষ্ট্য অর্জন ও অধিকার করে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করার চেষ্টা করা এবং আজীবন তার ধারক-বাহক হয়ে তা দান করা বা বিতরণ করা তথা আল্লাহর গুণাবলি নিজের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির কাছে পৌঁছে দেয়া। আল্লাহ তাআলার স্বনির্ভভরতা ও মুক্ততাসুলভ নামগুলো হলো আল আহাদু (একক), আল ওয়াহিদু (এক), আসসমাদু (স্বনির্ভর-অমুখাপেী), আল আদলু (ন্যায়ানুগ), আল হাক্কু (সত্য), আল কাবিউ (সুদৃঢ়), আল মাতিনু (শক্তিমান), আল কদিরু (মতাবান), আন নুরু (জ্যোতির অধিকারী), আর রিশদু (দিব্যজ্ঞানী), আল জামিলু (সুন্দর), আল বাররু (সৎকর্মশীল), আল মুহসিনু (সুকর্তা) ইত্যাদি।

হাদিস শরিফে আছে, দুনিয়ার আকর্ষণ সব পাপের মূল। (বুখারি, মুসলিম ও তিরমিজি)। নাজাত বা মুক্তি লাভ করার বা মুক্তির অধিকারী হওয়া বোঝা যাবে আচরণে, যদি মোহমুক্ত ভাব প্রকাশিত হয়; নয়তো নয়। তাই রমজানের তৃতীয় দশক নাজাতের বা মুক্তির ১০ দিন করণীয় হলো দুনিয়ার সবকিছুর আকর্ষণ থেকে সম্পূর্ণ মোহমুক্ত হওয়া। এই দশক মোমিন মুসলমানরা মসজিদে এতেকাফে কাটাবেন। যিনি এতেকাফে বসবেন তিনি দুনিয়ার সব কিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে শুধু আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকবেন। তারা গোসল ও পেশাব-পায়খানা ছাড়া বাইরে বের হবেন না। অন্য কোনো প্রয়োজনে বের হবার কোনো ধর্মীয় অনুমোদন নেই। এই ১০ দিনের যে শিক্ষা তা জীবনে যিনি বাস্তবায়িত করতে পারবেন তিনি সৌভাগ্যবান। নিজেকে পুত-পবিত্র করার এমন একটি সুযোগ বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর একটি নেয়ামত। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র ১০ দিনে সর্বোচ্চ এ সুযোগ নেককার মমিন মুসলমানরা তাই হাত ছাড়া করেন না।

মহান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের গুণ অর্জন ও আজীবন ধারণ করাই রমজানের মূল শিা। আল্লাহ পাক আমাদের প্রকৃত দয়া, মা ও মুক্তিলাভের তাওফিক দিন।

স্বাআলো/কে