ঘরে থাকব খাব কি? অথচ শপিংমল খুলে দেয়ার পর…

প্রদীপ রায় জিতু, দিনাজপুর : দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। তখন অনেকেই বলেছিল, ‘ঘরে থাকব খাব কি? ঘরে তো খাবার নেই। অথচ শপিংমলগুলো খুলে দেয়ার পর কেনাকাটায় কোনো কমতি নেই বলেই চলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে। ঘরে খাওয়ার কিছু নেয় কিন্তু টাকা আছে।

রবিবার সকালে এমন চিত্র দেখা গেছে পৌরশহরের মার্কেটগুলোতে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশেও শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস। অত:পর ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এসময় সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন সরকার। জনসমাগম ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। অনেকে আবার বলেন,’ ঘরে থাকলে খাব কি? ঘরে তো খাবার নেই।’ অথচ সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১০ মে থেকে শপিংমল খুলে দেয়ার কথা শুনেই আনন্দে ভাসতে শুরু করে বীরগঞ্জ উপজেলাবাসী। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই চলছে কেনাকাটা।

বীরগঞ্জ পৌরশহরের কাপড় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, আমরা ক্রেতাতদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দোকানের সামনে আসতে বলেছি কিন্তু তাঁরা তো শুনছে না। তাহলে আমরা কি করতে পারি। কিন্তু বীরগঞ্জ উপজেলায় দোকানপাট মার্কেট খুলে দেয়া মাত্রই ৪জনের শরীরে করোনার উপসর্গ পাওয়া যায়। এরপর চারদিনের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে আসে। তবুও কেনাকাটা থেমে নেই। উপজেলা সরকারী কমিশনার (ভূমি) রমিজ আলম তিনি নিজে মার্কেটগুলোতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের পুনরায় ডেকে সরকারি বিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, এতো কিছুর পরও যদি তারা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে তাদের বিরুদ্ধ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সচেতনমহল বলছে, শুধু কাগজে-কলমেই নিষেধাজ্ঞা, বীরগঞ্জ থেকে মানুষ ঢাকা যাচ্ছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বীরগঞ্জে আসছে। এতে করে করোনার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাআলো/এসএ