সুপার সাইক্লোন আম্ফান : পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশ্যায় তুমুল বর্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ওডিশ্যা প্রদেশে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। ভারতের এ দুই প্রদেশের কাছাকাছি এগিয়ে আসা ঝড়ের ভয়াবহ তাণ্ডব বুধবার বিকেলের দিকে শুরু হতে পারে। তার আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওডিশ্যায় ঝড়ছে আম্ফান।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) প্রধান এসএন প্রধান বলেছেন, তারা একসঙ্গে দুটি দুর্যোগ- করোনাভাইরাস মহামারি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ আম্ফানের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি রেল কর্তৃপক্ষকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিবাসীদের বহনকারী বিশেষ শ্রমিক ট্রেন বন্ধ রাখার আহ্বান জানাবেন। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপ অতিক্রম করবে সাইক্লোন আম্ফান।

সাইক্লোন আম্ফানের আপডেট

এসএন প্রধান বলেছেন, যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পশ্চিমবঙ্গ এবং ওডিশ্যায় এনডিআরএফের ৪০টি টিম মোতোয়েন করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির তীব্র শঙ্কার মাঝে সাইক্লোন আম্ফান আরেক দুর্যোগ হিসেবে হাজির হয়েছে।

সাইক্লোন আম্ফান সোমবার বঙ্গোপসাগরে সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়। এই ঝড়ের তাণ্ডবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশ্যায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালাতে পারে বলে দুই দেশের আবহাওয়া দফতর সর্বোচ্চ সতর্ক সঙ্কেত জারি করেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই শতাব্দির সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।

ভারত এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে ৫০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবের আশঙ্কায় অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে নেয়া হয়েছে নানা ধরনের ব্যবস্থা।

ভারতের আবহাওয়া দফতর বলছে, প্রবল এই ঘূর্ণিঝড় স্থলভূমিতে প্রবেশের পর উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ১৬৫ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার গতিবেগে আছড়ে পড়তে পারে। ঝড়টি সুন্দরবন, দিঘা এবং হাতিয়া দ্বীপের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে।

ঝড়টির গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়েও রূপান্তরিত হতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, সুপার সাইক্লোন আম্ফান সাগর থেকে উপকূলের কাছাকাছি চলে এসেছে। দুপুর ৩টায় এটি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

স্বাআলো/এসএ