কারফিউ ছাড়া বাঙালিকে ঘরে রাখা যাবে না

মকবুল হোসেন : একমাত্র কারফিউ ছাড়া বাঙালিকে ঘরে রাখা যাবেনা। তাও নিশ্চিত করে বলা যাবে না ঘরে থাকবে কি না তারা। বাঙালির তো আবার কারফিউ ভাঙার অভ্যাস আছে। সেই ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কারফিউ ভেঙে পাক বাহিনীর গুলি খেয়ে শহীদ হয়ে রাস্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠা করেছিল এই বাঙালিরা।

১৯৬২ ও ১৯৬৫ ও ১৯৬৯ সালে কারফিউ ভেঙে শিক্ষা ও ৬ দফা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান করেছিল এদেশের ছাত্র-জনতা তথা বাঙালিরা। এরা পরেনা কি? এরা সব পারে।

এইতো সেদিনের কথা। চোখের সামনে জ্বল জ্বল করছে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের কথা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কারফিউ আর বুলেট উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামে। অকাতরে বুকের রক্ত বিলিয়ে দিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল এই বাঙালি জাতি। দৃঢ় মনোবল আর আত্মবিশ্বাস এই জাতির মূলমন্ত্র। এ জাতি সব পারে।

জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে বাঙালিকে রুখে দাঁড়াতে হবে অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে। মন ও মানসিকতার দিক থেকে আজ আবার জাতিকে আরো একবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে। আমরা পারবো। আমরা অবশ্যই পারবো। আমরা পেরেছি। আমাদের ঐতিহ্য আছে। আমাদের ইতিহাস আছে। আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। আমরা আর একবার রুখে দাঁড়াই এই অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে।

এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ঘরে থাকতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে ঘরের বাইরে গেলে হাতে গ্লাবস ও মুখে মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন বা না হন পানির সাথে লবঙ্গ, দারুচিনি, এলাচ, আদা ও লেবুর রস  মিশিয়ে ১০ মিনিট জ্বাল দিয়ে দিনে ৪/৫ বার ভাপ নিন এবং ৪/৫ প্রতিদিন নিয়মিত পান করুন। করোনা আপনার ধারের কাছেও আসবেনা। আপনি করোনা পজিটিভ হলেও তা পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।

আসুন সবাই মিলে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করি। সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করি। নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুই। হাঁচি ও কাঁশি দেবার সময় মুখ ঢেকে রাখি। ভালো থাকো বাংলাদেশ। : লেখক প্রবীণ সাংবাদিক

স্বাআলো/কে