ভরেতের ৬ রাজ্যে পঙ্গপালের হানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৬ কোটি পঙ্গপালের ঝাঁক ভারতের কৃষকদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। দিল্লি থেকে মাত্র ২০০ কিমি দূরে অবস্থান করছে পাঞ্জাব, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশে ফসলি জমিতে। পঙ্গপালের উৎপাত রাজস্থান ও হরিয়ানাতেও।

রবিশস্য তোলা হয়ে গেলেও এই পতঙ্গের হানায় খারিফ শস্যে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত, রাজস্থান, পাঞ্জাব, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা তিন শ’র বেশি এলাকার ৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে পঙ্গপাল হানা দিয়েছে ৷

অবস্থা এমন যে, কোথাও ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, থালা বাটি বাজিয়ে বা কোথাও তারস্বরে ডিজে বাজিয়ে আর কোথাও ড্রোনের সাহায্যে পঙ্গপাল বিদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। পঙ্গপালের মেঘ কাটাতে কিছু পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রও। বিভিন্ন রাজ্যে কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি চলছে।

পঙ্গপাল তাড়াতে কীটনাশক ছড়াতে দমকলের ৮৯টি ইউনিট ৷ সমীক্ষা করতে নিয়োজিত হয়েছে ১২০টি গাড়ি ৷ স্প্রে-সহ ৪৭ গাড়ি এবং ৮১০টি স্প্রে করার যন্ত্র দেয়া হয়েছে ৷ প্রতিদিন দেশের নতুন নতুন এলাকায় পঙ্গপাল বাহিনী ঢুকে পড়েছে। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে ফসলের দফারফা করে পতঙ্গের ঝাঁক দু’টি ভাগে ভাগ হয়ে ঢুকেছে মহারাষ্ট্রে। এক দল গেছে নাগপুরের পারসেওনির দিকে আর এক দল গেছে ভান্ডারার দিকে। উত্তর মহারাষ্ট্রে বিদর্ভ ও চার জেলায় পঙ্গপালের হামলার সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। ওড়িশাতেও কৃষকদের সতর্ক করেছে প্রশাসন।

জানুয়ারির মাঝামাঝি পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢুকতে শুরু করে পঙ্গপালের ঝাঁক ৷ গত ২৭ বছরে এই বছরই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পঙ্গপালের হানা ৷ একটি পূর্ণাঙ্গ মরু পঙ্গপাল প্রতিদিন ২ গ্রাম খাবার খায়৷ ১ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ১৫ কোটি পঙ্গপালের ঝাঁক থাকতে পারে ৷ এই এক ঝাঁক পঙ্গপাল এক দিনে ৩৫ হাজার মানুষের খাবার খেতে পারে৷ পঙ্গপালের টার্গেট ফসল, মানুষকে আক্রমণ করে না ৷ তীব্র আওয়াজে পঙ্গপাল শুধু দূরে পালিয়ে যায়৷ কীটনাশক ও রাসায়নিক দিয়ে পঙ্গপালকে বাগে আনা যেতে পারে ৷

একেই লকডাউনের জেরে ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। তার মধ্যে ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশে পঙ্গপালের হানায় অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের অশনি সংকেত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : নিউজ ১৮

স্বাআলো/কে